ঝিনাইদহে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। জেলার বিভিন্ন স্থানে আলাদা আলদা পাঁচটি হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় তারা আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহষ্পতিবার রাতে ও শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত শৈলকুপা, ঝিনাইদহ সদর, মহেশপুর ও কালীগঞ্জে এসব হামলা, পাল্টা হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প ও সমর্থকদের বাড়িঘরের পাশাপাশি ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে শৈলকুপা উপজেলার ত্রিবেনী ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে বিএনপি নেতা মধু মোল্লা ও তপনের সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন।
তাদের মধ্যে সলিম (৪০), সীমান্ত(২০), হুজাইফা (১৬), আফাজ উদ্দিন (৪২), নিজাম উদ্দিন(৫৫) ও বাবুল (৪৫) সহ ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এরপর বেলা ১১টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের নীমতলা বাসষ্ট্যান্ডের বাজার রোডে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনী ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার কর্মীরা। বিএনপির যুবদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, খোকন, ইভন ও জবেদ আলী নামে তিন কর্মীকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে।
একই সময় সদর উপজেলার নলডঙ্গা ইউনিয়নের ভিটশ্বর গ্রামের ধানের শীষের সমর্থকরা কাপপিরিচ প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে বলে খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আকরাম হোসেন, ফজলুর রহমান, ফারুক হোসেন, নজরুল ইসলাম ও জাফর উদ্দীন নামে পাঁচজন জখম হয়। এরমধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
একই ইউনিয়নের খড়াশুনি গ্রামে কাপপিরিচের সমর্থক কাওসার বিশ্বাসের ওপর ধানের শীষের সমর্থকরা হামলা করে তাকে আহত করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার।
শুক্রবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজারের খালকুলা গ্রামে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের তিনজন আহত হন। সদর উপজেলার চন্ডিপুর বাজারে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এক জামায়াত কর্মীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ঝিনাইদহের প্রেসক্লাব-মহেশপুর কার্যালয় ভাঙচুর করে দুবৃত্তরা। ক্লাবের সভাপতি সরোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া দুজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘যে সব স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সেসব জায়গায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এলার্ট রয়েছে। কেউ কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।’


