বাংলাদেশের জ্বালানি খাত কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন বা গ্যাস সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ক্রমেই রাজনৈতিক সার্বভৌমত্বের কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
তিনি বলেন, ‘একটা দেশে তেল-গ্যাস মজুদ আছে, কিন্তু যদি ঘরে বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে বুঝতে হবে একটা ‘মিসিং লিংক’ আছে। আর সেটা হলো রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব অর্থাৎ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি।’
রোববার রাজধানীতে আয়োজিত জ্বালানি, অর্থনীত, সংস্কার ও গণভোটবিষয়ক জাতীয় কনভেনশনে এসব কথা বলেন তিনি। কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এই কনভেনশনের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি।
আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘আমরা জ্বালানি বলতে শুধু তেল-গ্যাসের মজুত বা কেনাবেচা বুঝি কিন্তু এর ভেতরে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা হচ্ছে–কে নিয়ন্ত্রণ করছে?’
বিশ্ব রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে ফুয়াদ বলেন, ‘গত কয়েক দশকের যুদ্ধগুলো শুধু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ছিল না, যেখানে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ আছে, সেখানেই বিভিন্ন অজুহাতে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।’
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিনি ভারত-সংযুক্ত বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা শুধু ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রশ্ন না, এটা হচ্ছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কার হাতে থাকবে সেই প্রশ্ন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের চুক্তি সার্বভৌমত্বকে সীমিত করে দেয়।’
অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ দশকে জ্বালানি খাতে সবচেয়ে দুর্বল জায়গা ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর বদলে বিদেশি নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে, আর দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যত নিষ্ক্রিয় রাখা হয়েছে।’
বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফুয়াদ বলেন, ‘ক্লিন এনার্জি এখন শুধু পরিবেশের প্রশ্ন না। এটা নতুন ব্যবসার মডেল এবং প্রযুক্তি ট্রান্সফার ছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর এটা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
ফুয়াদ বলেন, ‘জ্বালানি খাতকে যদি শুধুই অর্থনৈতিক হিসেবে দেখা হয়, তাহলে আসল সংকটটা ধরা যাবে না-এটাকে সার্বভৌমত্বের কাঠামোর ভেতরে বুঝতে হবে।’


