জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না–এ মর্মে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে সোমবার এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এবং গাজী কামরুল ইসলাম।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে অংশ নেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। তার আবেদনে বলা হয়, এসব বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না–সে বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়।
এ ছাড়া, গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়া চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আলাদা রিট করেন।
তার আবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট আদেশ ও চিঠি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন তা বাতিল ঘোষণা করা হবে না–সে বিষয়ে রুল জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আদেশ ও শপথ-সংক্রান্ত চিঠির কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।


