যদি শুক্রবার জুলাই জাতীয় সনদে কোনো রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর না করে, তবে পরবর্তীতে তারা চাইলে সই করার সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫‘ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন তিনি।
আলী রীয়াজ বলেন, ‘আগামীকাল সব দলের স্বাক্ষর নিতে পারলে ভালো। তবে যদি কোনো দল পরবর্তীতে স্বাক্ষর করার কথা বলে, তারা সনদ প্রক্রিয়ার অংশীদার এবং শরিক হিসেবে তারা তা করতে পারবে। তবে কমিশন আশা করছে, সকল দল একসঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাক্ষর করবে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং তাদের নেতাদের বক্তব্য, যারা সনদে সই করতে আইনি ভিত্তির বিষয় তুলে ধরছেন, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এনসিপি এই প্রক্রিয়ায় অগ্রগামী ভূমিকা রেখেছে। তারা গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং সনদ প্রক্রিয়ায় তাদের অবদান রয়েছে।’
আলী রীয়াজ আরও জানান, কমিশন মনে করে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি স্থাপন করা প্রয়োজন এবং এই বিষয়ে কমিশন একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ দেবে। তিনি আশা করেন, এনসিপিসহ সব রাজনৈতিক দল সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে এবং বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া, কমিশনের মেয়াদ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যাতে তারা সনদ বাস্তবায়নের জন্য পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ দিতে পারেন এবং সেগুলোর বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।
বাম দলগুলোর সনদে স্বাক্ষর না করার ঘোষণা প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, ‘এগুলো আলোচনার সময় তাদের আপত্তি ছিল, কমিশন সেগুলো গ্রহণ করেছে। তবে আশা করি, তারা সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিবে।’
সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আসবে।’
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সনদের প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যত কার্যকারিতা নিয়ে ভিডিও প্রদর্শন করা হবে, এবং আগামী দুই মাসে এ বিষয়ে আরও কাজ করা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান বিচারপতি এমদাদুল হক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান প্রমুখ।


