‘জুলাই অভ্যুত্থান একটা পরিবর্তনের শুরু মাত্র। এটি এক-দুই বছর কিংবা একটা-দুইটা সরকারের বিষয় না। সরকার আসবে যাবে, কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থান পুরাতন ব্যবস্থা ও পুরাতন বন্দোবস্তে ছেদ করেছে।’ জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে আয়োজিত ‘জুলাই পুনর্জাগরণ র্যালি-২০২৫’ শেষে এসব কথা বলেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।
শনিবার র্যালিটি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন চত্বর থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শেষ পর্যায়ে শিক্ষক, সমাজকর্মী ও সংস্কৃতি কর্মীরা রাজপথে নেমে কারফিউ ভেঙে শহীদ মিনারে প্রোগ্রাম করেন, যা আমাদের ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করে। সবদিক বিবেচনায় শহীদ মিনার আমাদের প্রতিরোধ ও বিজয়ের অনুষঙ্গ। এখান থেকেই ৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এক দফা ঘোষিত হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘গত বছরের অভ্যুত্থানে প্রায় দুই হাজার মানুষ শহীদ হন, ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ আহত হন। এই আত্মত্যাগ স্মরণেই আমাদের কার্যক্রম। যতদিন আমরা শহীদদের স্মরণে রাখব, আহতদের মর্মপীড়া আমরা যতদিন অনুভব করব, ততদিন আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকব।’
‘আমরা অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, যার একটি বড় অংশ বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে। অনেক কিছু পরিবর্তিত হয়েছে। আবার হয়তো সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এক বছরে সম্ভব হয়নি। তবে আমাদের চেষ্টা ছিল, এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে’, যোগ করেন তথ্য উপদেষ্টা।
ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার কারণে যারা বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন, তারা এখন ১৬ বছর অধিকার ও ন্যায্যতার দেখা পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের যেই প্রজন্ম এই গণতন্ত্রের অভিযাত্রা সূচনা করেছে, তাদের দেশের সব সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান স্মরণ রাখবে। আমরা বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তরিত করব।’


