ঢাকার আশুলিয়ার সাভারে নলাম এলাকায় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) কোম্পানির একটি সিগারেটের গুদামে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। বেলা ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে গুদামের পেছনের দিক থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখে, নিজেরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে জিরাবো ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুন দ্রুত গুদামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায়, জিরাবো থেকে আরও দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশনের আরও দুটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়।
জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা আহমেদুল কবির বলেন, ‘গুদামে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বেগ পেতে হয়েছে।’
বেলা ১টা নাগাদ আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার কনক চৌধুরী বলেন, ‘আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে বা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। আগুনের ঘটনা তদন্ত করে পরে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।’
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। বিএটি বাংলাদেশের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘সকালে সাভারের নোলামে অবস্থিত আমাদের একটি গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আমরা নিশ্চিত করছি, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করা।’
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিএটিবি তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে গত বছরের জুলাইয়ে রাজধানীর মহাখালী থেকে কারখানা ও গুদাম কার্যক্রম আশুলিয়ার নতুন চত্বরে স্থানান্তর করে।


