ম্যাচের প্রথমার্ধে মিনিট দশেকের এক টর্নেডো ঝড়ে কাতারের ওপর চড়াও হয়েছিল বসনিয়া হার্জেগোভিনা। পাল্টা কামড় দিয়ে কাতারও ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল বটে, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের সব প্রতিরোধ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। শেষ দিকে আরেকটি চমৎকার গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার আশা উসকে দিল বসনিয়া।
বুধবার রাতে সিয়াটলে বি গ্রুপের বাঁচা মরার এই লড়াইয়ে স্নায়ুচাপ সামলে কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে বসনিয়াকরা।
আলেবেগোভিচের দর্শনীয় গোলের পর আত্মঘাতী গোলের ধাক্কায় ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় কাতার। মাঝে হাসান একটি গোল শোধ করে আশা জাগালেও শেষ মুহূর্তের গোল কাতারকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়।
এই জয়ের পর ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে শেষ করল বসনিয়া। তিন ম্যাচে ১০ গোল হজম করে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ মিশন শেষ করল কাতার। ৪৮ দলের এই বিশ্বমঞ্চে ১২টি গ্রুপের প্রথম দুটি দল সরাসরি যাবে পরের রাউন্ডে, আর সঙ্গে যোগ দেবে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দল। ৪ পয়েন্ট পাওয়ায় সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হয়ে নকআউটে যাওয়ার বেশ ভালো সম্ভাবনা তৈরি করেছে বসনিয়া।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে খেলার স্বপ্ন নিয়ে ম্যাচের শুরু থেকে তেড়েফুঁচে খেলতে থাকে বসনিয়া। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের ঠিক পরেই পাঁচ মিনিটের এক ঝড়ে কাতারকে স্তব্ধ করে দেয় তারা।
২৯তম মিনিটে সতীর্থের পাস ধরে আড়াআড়ি পজিশনে গিয়ে প্রতিপক্ষের কয়েকজন ডিফেন্ডারকে বোকা বানান তরুণ উইঙ্গার আলেবেগোভিচ। এরপর প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে তার নেওয়া এক বুলেট গতির শট কাতারের জাল কাঁপিয়ে দেয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় দলে অভিষেকেই গোল করা ১৮ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালকের আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি দ্বিতীয় গোল।
প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৩৪তম মিনিটে দুর্ভাগ্যবশত দ্বিতীয় গোল হজম করে কাতার। ডি বক্সের ডান দিক থেকে সতীর্থকে পাস বাড়াতে চেয়েছিলেন বসনিয়ার তারকা এডিন জেকো, কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কাতারি ডিফেন্ডার সুলতান আল ব্রাকের পায়ে লেগে বল দিক পরিবর্তন করে সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। চার মিনিট পর ব্যবধান ৩-০ হতে পারত, তবে এবার দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ডি বক্সে ঢুকে জেকোর নেওয়া শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে।
নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বেঁচে গিয়ে যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় কাতার। ৪২তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে আসা পাস গোলমুখে পেয়ে পড়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে চমৎকার এক টোকায় ব্যবধান কমান কাতারি ফরোয়ার্ড হাসান। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগও পেয়েছিল তারা, তবে পর্তুগালে জন্ম নেওয়া কাতারি ডিফেন্ডার পেড্রো মিগেলের জোরালো শটটি এবার গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসলে হতাশ হতে হয় কাতারকে।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই সাবধানে খেলতে থাকে। তবে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে কাতারের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় বসনিয়া। ডি বক্সের ভেতর বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তালগোল পাকায় কাতারের ডিফেন্ডাররা।
সেই আলগা বল পেয়েই জোরাল শটে কাতারের জালে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন মিডফিল্ডার মাহমিচ। গোলরক্ষকের গায়ে লেগে বল লাইনের ভেতরে চলে যেতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে বসনিয়ার পুরো শিবির। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর কোচ সের্গেই বার্বারেসের উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল, নকআউট পর্বের টিকিট পাওয়ার ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী তারা।


