নির্বাচনে নতুন ইতিহাসের মোড়ক উন্মোচিত হবে: জামায়াত আমির

নির্বাচনে নতুন ইতিহাসের মোড়ক উন্মোচিত হবে: জামায়াত আমির
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের যুব ম্যারাথনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান | ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেউ যেন ভোটারদের ভোট নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তার মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের নতুন ইতিহাস উন্মোচিত হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় দিবস উপলক্ষে যুব ম্যারাথনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘কোনো ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না। কেউ যেন নিজেকে অতিরিক্ত ধূর্ত না ভাবেন। জনগণ এখন নিজের বুঝ বুঝতে শিখেছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো কালো হাত এগিয়ে এলে তা জনগণ অবশ করে দেবে।’

‘আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের মোড়ক উন্মোচন হবে।’

অতীতের রাজনীতিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশবাসীকে জানাতে চাই, অতীতের বস্তা পচা সমস্ত রাজনীতিকে পায়ের তলে ফেলে দিতে চাই। এই রাজনীতি বাংলাদেশে অচল। এই রাজনীতির পাহারাদারি যারা করতে পারবে তারা অচল মালে পরিণত হবে। এখন বাংলাদেশে নতুন রাজনীতি করতে হবে।’

‘যেই রাজনীতি হবে দেশ, জাতি, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের পক্ষে। যেই রাজনীতি হবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পক্ষে। যে রাজনীতি হবে দুর্নীতির বিপক্ষে, চাঁদাবাজদের বিপক্ষে। যে রাজনীতি হবে দখলবাজ, মামলাবাজদের বিপক্ষে। যেই রাজনীতি হবে ধর্ষণকারীদের বিপক্ষে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা শান্তির এক টুকরো বাংলাদেশে চাই। যেই বাংলাদেশের প্রাণ হবে যুবসমাজ। যাদের হাত ধরে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’

দলের বিজয় নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের বিজয় হিসেবে যা চিহ্নিত হবে সেই বিজয়ের অংশীদার হবো আমরা।’

আরও পড়ুন

জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধের ‍মুখে সব ষড়যন্ত্র ভেসে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ক্ষমতা পেলে দেশের জন্য ‘ভালো কিছু’ করার প্রত্যাশা জানিয়ে জামায়াত আমির আগামীতে নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারও করেন।

রাজনীতিকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে রাখার ওপরও জোর দেন তিনি।

জামায়াত আমির নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো আনুকূল্য চাই না, আপনারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন।’

শফিকুর রহমান স্বাধীনতা পরবর্তী শাসকগোষ্ঠীর (আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন।

তিনি বলেন, একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের সম্পত্তি মনে করে অন্যদের দাস বানিয়েছিল, বহুদলীয় গণতন্ত্র ধ্বংস করেছিল এবং রক্ষীবাহিনীর নামে ‘জল্লাদ বাহিনী’ তৈরি করেছিল।

তার অভিযোগ, সে সময় বিদেশ থেকে আসা ত্রাণ রাষ্ট্রের কতিপয় কর্তাব্যক্তি বিক্রি করে দেওয়ায় ৭৪-এর দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ দেশে ‘ছোপ ছোপ রক্ত আর কাড়ি কাড়ি মরদেহ’ উপহার দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা, ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যা, শাপলা চত্বরের নৃশংসতা এবং ২০১৮ সালের সুবর্ণচর ঘটনার উল্লেখ করেন।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশপ্রেমিক সেনাসদস্যরা কেন তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, সে উত্তর তাদেরই খুঁজে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত আমিরের নেতৃত্বে যুব ম্যারাথনটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে শুরু হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad