জিয়াউর রহমান শ্রমিকের দুই হাতকে উন্নয়নের চাবিকাঠি ভাবতেন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
তিনি বলেছেন, ‘রহমান শ্রমিকদের দুটো হাতকে উন্নয়নের চাবিকাঠি ভাবতেন এবং এ দেশের শ্রমিকের কল্যাণে তিনি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।’
শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মে দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত নীতি ও সংস্কার শ্রম কল্যাণের ভিতকে শক্তিশালী করেছে। পরবর্তীতে খালেদা জিয়া শ্রমিকের অধিকার, কর্মসংস্থান ও কল্যাণের ভিতকে আরও বিস্তৃত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ শোভন কর্মপরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনা নিয়েছে।’
দেশের শিক্ষিত ও বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ চলমান রয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দক্ষ ও মেধাবী শ্রমজীবীদের বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রচেষ্টাও অব্যাহত আছে।’
টেকসই উন্নয়নের জন্য তিনি নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং মালিক-শ্রমিকের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের মাধ্যমে সৌহার্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী পক্ষের প্ররোচনায় শ্রমিকেরা যেন শ্রম অসন্তোষের মতো বিষয়ে জড়িয়ে না পড়েন। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর সুচিন্তিত পরামর্শে গত ঈদুল ফিতরে বেতন-বোনাস ও ছুটি নিশ্চিত করায় শ্রম পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমরা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছি। শ্রমিক ও মালিক পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে এটি সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’
আলোচনা সভার পূর্বে সকাল ৮টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। ঘোড়ার গাড়ি ও ব্যান্ড পার্টি সজ্জিত র্যালিটি বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের মূল ফটকে এসে শেষ হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রমসচিব মো. আব্দুর রহমান তালুকদার, আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন।
এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য এবং মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।


