জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির ১২২ জন নেতা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক জোটের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। তারা ব্যক্তিগতভাবে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে লিখিতভাবে তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. আরিফুর রহমান তুহিন বিষয়টি টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘যারা সিদ্ধান্তটির সঙ্গে একমত, তাদের পক্ষ থেকেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ১২২ জন নেতা চিঠি দিয়েছেন এবং সবাই এতে সম্মতি জানিয়েছেন।’
তিনি আরও জানান, আলোচনায় থাকা ৩০ জন নেতা, যারা শনিবার দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছিলেন তার বাইরে দলের বাকি সবাই সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ওই ৩০ জনের মধ্যেও অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর ১৬–১৭ জন স্পষ্ট করেছেন, তারা কেবল কিছু উদ্বেগ তুলে ধরেছিলেন; তবে চূড়ান্তভাবে দলের সিদ্ধান্তের পক্ষেই রয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, জোটের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া ৩০ নেতার একটি তালিকা প্রকাশ্যে আসার পরই জোটের পক্ষে সমর্থন জোরদার করার এই উদ্যোগ শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে সমর্থনসূচক চিঠি পাঠাতে থাকেন।
চিঠিতে বলা আছে, দলের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে সময়োপযোগী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অপরিহার্য। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘দলীয় ও জাতীয় স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বৃহত্তর লক্ষ্য বিবেচনায় রেখে এনসিপি যদি কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা বা জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আমরা তা পূর্ণ সমর্থন ও অনুমোদন জানাই।’
নেতারা চিঠিতে জানান, আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব অনুমোদিত যে কোনো জোট বা নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর তাদের আস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে আহ্বায়কের দূরদর্শী নেতৃত্ব দলকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী রাখবে এবং জনআস্থা আরও বাড়াবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সরোয়ার তুষার, আতীক মুজাহিদ, জাভেদ রাশিন, সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, এহতেশাম হক, যুগ্ম প্রধান সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন, সিনিয়র যুগ্ম প্রধান সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, আতাউল্লাহ, মাহমুদা মিতু, আলী নাসের খান ও মাহিন সরকারসহ আরও অনেকে।


