জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী শারমীন জাহান খাদিজা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
রোববার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন। এ সময় শারমিনের হত্যাকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক’ বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য।
তিনি জানান, এ ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। একই সঙ্গে নিহতের আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শারমীনের পরিবারের পাশে থাকবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই অধ্যাপক।
এদিকে একই ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নেতারা বলেন, শারমীনের হত্যাকাণ্ড ‘পরিকল্পিত’ হতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসের কাছেই শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। একজন শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক পরিণতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করেন তারা।
ছাত্র ইউনিয়ন দ্রুত ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, দায়ীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
এর আগে রোববার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শারমীনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় শারমীনকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শারমীনকে হাসপাতালে নেওয়া ফাহিম আল হাসান নিজেকে তার স্বামী দাবি করে বলেন, বিকালে বাসায় গিয়ে তিনি শারমীনকে মাথায় রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বাড়িওয়ালার সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আশুলিয়া থানার পুলিশ সদস্য কামাল হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, তদন্তের জন্য ডিবি ও সিআইডিকে জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
শারমিন জাহানের চাচা মামলা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি আশ্বস্ত করেন, পুলিশ এ ব্যাপারে সহযোগিতা করছে।


