জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ফজিলতুন্নেসা হলের তিন কর্মচারীকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ওয়ালর্ড সিকিউরিটি সলিউশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে।
চাকরিচ্যুতরা হলেন–ডাইনিং অ্যাটেনডেন্ট মীরা রানী রায়, চম্পা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোছা. সোমা। রোববার তাদের বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয় সিতা রানী, রহিমা আক্তার ও সুমা বেগমকে।
চাকরিচ্যুত কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর সোমবার একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, দেড় বছরের বেশি সময় সৎভাবে কাজ করার পরেও কোনো নোটিশ বা কারণ না জানিয়ে হঠাৎ চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তারা মানসিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
চম্পা নামের এক চাকরিচ্যুত কর্মচারী বলেন, ‘আমি কোম্পানিকে দুই লাখ টাকা দিয়ে চাকরি নিয়েছি। জমি বিক্রির টাকা থেকে দিয়েছিলাম। এখন হঠাৎ বিনা নোটিশে চাকরি খেয়ে ফেলল। আমরা সব দিক থেকে বিপদে আছি।‘ তার দাবি, টাকা ছাড়া এই কোম্পানিতে চাকরি পাওয়া যায় না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছয়-সাত মাস আগে হলের প্রাধ্যক্ষ তাদের বাসায় গিয়ে কাজ করতে বলেছিলেন। তারা অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে হয়তো তাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
তবে চাকরিচ্যুত এই তিন কর্মচারী উপাচার্য বরাবর জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে এমন কিছু উল্লেখ করেননি। মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও বাকি দুই চাকরিচ্যুত কর্মচারী মীরা ও সীমা ফোন রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়ালর্ড সিকিউরিটি সলিউশন লিমিটেড ২০২৩ সালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন হলে ৬৪ জন কর্মচারী নিয়োগ দেয়। ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে ছিলেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা, যারা সব ধরনের নিয়োগের ট্রেন্ডার দিতেন। সাবেক উপাচার্য নূরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ রাশেদা আখতার ও প্রক্টর ফিরোজ আল হাসান নিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করতেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডেপুটি রেজিস্ট্রার বলেন, ‘তখন যত ট্রেন্ডার হতো সব নিয়ন্ত্রণ করতেন উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও তৎকালীন প্রক্টর। তারা নিজেদের লোকদেরকে টেন্ডার দিতেন এবং এগুলোতে অবশ্যই লেনদেন হতো। লেনদেনের মাধ্যমে টেন্ডার দেওয়া হতো। সুতরাং যে কর্মচারী অভিযোগ করেছে লেনদেনের সে অভিযোগ অসত্য নয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবিএম আজিজুর রহমান বলেন, ‘হল প্রভোস্ট অভিযোগ করেছিলেন কর্মচারীরা কাজ ঠিকমতো করছে না। আমরা সেটি কোম্পানিকে জানিয়েছি। তবে নিয়োগ বা বাদ দেওয়ার বিষয় সম্পূর্ণ কোম্পানির এখতিয়ার। এখানে প্রাধ্যক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো এখতিয়ার নেই।’
যোগাযোগ করা হলে হল প্রভোস্ট নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কখনোই তাদের আমার বাসায় কাজ করতে বলিনি। ইনফ্যাক্ট, হলের কোনো কর্মচারীকেই আমি চিনতাম না। প্রভোস্ট কোনো কর্মচারীকে কর্মচ্যুত করার ক্ষমতা রাখেন না। বিশেষ করে আউটসোর্সিংয়ের কোনো কর্মচারীকে একমাত্র তার নিয়োগকারী কোম্পানিই চাকরি থেকে অব্যাহতি বা পরিবর্তন করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরে আউটসোর্সিং কোম্পানি তাদের কর্মচারীদের সতর্ক করে নোটিশ দেয় করে এবং তাদেরকে একবার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করে।’
ওয়ালর্ড সিকিউরিটির নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমাদের কোম্পানিতে বিনা নোটিশে কাউকে বাদ দেওয়ার নিয়ম নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’
কর্মী নিয়োগে টাকার লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই এবং বিষয়টি অবৈধ।’


