জাপান সাগর, পূর্ব চীন সাগর ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি যৌথ কৌশলগত বিমান টহল পরিচালনা করেছে চীন ও রাশিয়ার বিমানবাহিনী।
বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘ পাল্লার এই টহলটি ছিল দুই দেশের বিমানবাহিনীর মধ্যকার একাদশতম যৌথ অভিযান, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের দৃঢ় সংকল্প এবং সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।
দ্য জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদনে রোববার বলা হয়, জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ফাইটার জেট মোতায়েন করে।
জাপানি সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চীনের চারটি এইচ-৬ বোমারু বিমান এবং রাশিয়ার দুটি টিইউ-৯৫ বোমারু বিমানসহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
এই বহরে রাশিয়ার দুটি টিইউ-১৪২ টহল বিমান, চীনের দুটি জে-১৬ ফাইটার জেট এবং রাশিয়ার একটি এসইউ-৩০ ফাইটার জেট অন্তর্ভুক্ত ছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
বিমানের উড্ডয়ন পথ অনুযায়ী, কিছু বোমারু বিমান ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের কাছাকাছি মিয়াকো প্রণালি হয়ে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশ করে এবং পরে একই পথে ফিরে যায়।
সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি এই যৌথ টহলের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দুই দেশের এই বারবার বোমারু বিমান উড্ডয়ন জাপানের চারপাশে তাদের কার্যক্রমের বিস্তার ও তীব্রতা বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে।
এটিকে স্পষ্টতই জাপানের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী শক্তি প্রদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা ছাড়া উপায় নেই, বলেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়াও জানিয়েছে, একই দিনে চীন ও রাশিয়ার ১০টিরও বেশি সামরিক বিমান তাদের বিমান প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলে প্রবেশ করার পর তারা ফাইটার জেট মোতায়েন করে। যদিও বিমানগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেনি।
এর আগে গত ডিসেম্বরেও চীন ও রাশিয়া বোমারু ও ফাইটার জেট নিয়ে এমন দীর্ঘ পাল্লার যৌথ টহল পরিচালনা করেছিল।


