চলমান আমানত সংকট, গ্রাহক আন্দোলন ও টানা তারল্য চাপে থাকা ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চেয়ারম্যানসহ পর্ষদের সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যত দেশের সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে।
রোববার রাতে জারি করা এক আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা ও ৪৭(৩) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক, আমানতকারী ও জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সকল পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
একই আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন ইসলামী ব্যাংক গত দুই সপ্তাহে নজিরবিহীন আমানত উত্তোলনের চাপে পড়েছে এবং তারল্য সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা বিশেষ সহায়তা চেয়েছে।
ব্যাংক সূত্র অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ব্যাংকটি থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত তুলে নেওয়া হয়। ১০ জুন আরও প্রায় ৯০০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়।
পরে বৃহস্পতিবার ও রোববার নিট উত্তোলনের পরিমাণ ছিল প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা করে। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেয়। একই দিন বিকেলে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ওই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।
সংকটের সূত্রপাত হয় গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের পর।
ঈদুল আজহার ছুটির পর প্রথম কর্মদিবস থেকে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ নতুন চেয়ারম্যানকে অপসারণ এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু করে।
ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় ও বিভিন্ন শাখার সামনে চলা এসব কর্মসূচির মধ্যে গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং আমানত উত্তোলনের চাপ বাড়তে থাকে।


