বাংলাদেশের সামগ্রিক পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স বা পিএমআই জানুয়ারিতে কিছুটা কমেছে।
জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক পিএমআই সূচক ডিসেম্বরের চেয়ে শূন্য দশমিক ৩ পয়েন্ট কমে ৫৩ দশমিক ৯–এ দাঁড়িয়েছে।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের (পিইবি) যৌথভাবে প্রকাশিত জানুয়ারি মাসের পিএমআই প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
পিএমআই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বিষয়ে সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দেয়। যেন ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকেরা তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
পিএমআই ৫০ পয়েন্টের নিচে থাকলে তা অর্থনৈতিক সংকোচন এবং ওপরে থাকলে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ নির্দেশ করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জানুয়ারি মাসের বাংলাদেশের পিএমআই আগের মাসের তুলনায় সামান্য কমেছে, যা সম্প্রসারণের গতি কিছুটা শ্লথ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
সর্বশেষ এই সূচক অনুযায়ী কৃষি, উৎপাদন ও পরিষেবা খাতে সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে আগের মাসে সংকোচনের পর নির্মাণ খাত আবার সম্প্রসারণে ফিরে এসেছে।
কৃষি খাত ধারাবাহিকভাবে পঞ্চম মাসের মতো সম্প্রসারণ রেকর্ড করেছে, যদিও সম্প্রসারণের হার কিছুটা কমেছে। নতুন ব্যবসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচকে সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলেও কর্মসংস্থান ও ইনপুট খরচ সূচকে সংকোচন দেখা গেছে। অর্ডার ব্যাকলগ সূচক সংকোচনে থাকলেও এর গতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
উৎপাদন খাত ধারাবাহিকভাবে ১৭তম মাসের মতো সম্প্রসারণে রয়েছে, যদিও আগের মাসের তুলনায় প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে। নতুন অর্ডার, কারখানা উৎপাদন, আমদানি, ইনপুট মূল্য এবং সরবরাহকারীর ডেলিভারি সূচকে সম্প্রসারণ রেকর্ড করা হয়েছে। তবে নতুন রপ্তানি, ইনপুট ক্রয়, সমাপ্ত পণ্য এবং কর্মসংস্থান সূচকে সংকোচন দেখা গেছে। এ মাসে অর্ডার ব্যাকলগ সূচক আবার সম্প্রসারণে ফিরে এসেছে।
নির্মাণ খাত আগের মাসের সংকোচনের পর আবার সম্প্রসারণে ফিরে এসেছে। নতুন ব্যবসা, নির্মাণ কার্যক্রম এবং ইনপুট খরচ সূচকে সম্প্রসারণ দেখা গেলেও কর্মসংস্থান ও অর্ডার ব্যাকলগ সূচকে সংকোচন রেকর্ড করা হয়েছে।
পরিষেবা খাত ধারাবাহিকভাবে ১৬তম মাসের মতো সম্প্রসারণ রেকর্ড করেছে এবং এ মাসে সম্প্রসারণের গতি আরও জোরদার হয়েছে। নতুন ব্যবসা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান, ইনপুট খরচ এবং অর্ডার ব্যাকলগ—সবকটি সূচকেই সম্প্রসারণ দেখা গেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচকের ক্ষেত্রে, কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও পরিষেবা—অর্থনীতির সব প্রধান খাতেই দ্রুততর সম্প্রসারণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা প্রতিফলিত করে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সার্বিকভাবে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি দুর্বল ও অনিশ্চিত। কাঁচামাল, শ্রম, পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে খরচ বেড়েছে, অথচ বিক্রি প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যবসায় বড় উদ্বেগ হিসেবে কাজ করছে, যার ফলে অর্ডার স্থগিত, বিনিয়োগে অনীহা এবং ক্রেতাদের সতর্ক আচরণ দেখা যাচ্ছে।
অবশ্য অনেক ব্যবসায়ী মার্চ মাসের পর বা নির্বাচনের পর পরিস্থিতির উন্নতির আশা করেছেন।


