শিক্ষামন্ত্রী বারবার ‘নকল আর হবে না’ বলে সতর্কবার্তা দেওয়ার মধ্যেই রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় প্রকাশ্যে নকলের অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি নকল ধরার কারণে দায়িত্বরত শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ বিরাজ করছে শিক্ষকদের মধ্যেও। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে মুখ খুলতেও চাননি কেউ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাস্টার্স শেষ পর্ব পরীক্ষায় মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে শিক্ষকদের সামনেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে উত্তরপত্রে লেখা, এক আসন থেকে আরেক আসনের গিয়ে উত্তরপত্র দেখে লেখার ঘটনার পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কারও বিরুদ্ধে।
তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল হক। তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘নকলের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে চোখের আড়ালে যদি কিছু ঘটে সেটি আলাদা বিষয়।’ নকলের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভিডিওটি দুই-তিন বছর আগের।
শিক্ষকদের অভিযোগ, গত ১৯ এপ্রিল ২০২ নম্বর কক্ষে সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম পরীক্ষায় মোবাইল ফোন দেখে উত্তর লেখার সময় এক শিক্ষার্থীকে ধরে ফেলেন প্রভাষক আবু সাঈদ ও অধ্যাপক রোকসানা উকিল নামের দুজন শিক্ষক। এরপর তাদের ওই কক্ষ থেকে প্রত্যাহার করে নেয় কর্তৃপক্ষ।
কলেজের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে টাইমসকে বলেন, ‘নকল ধরার কারণে শিক্ষককে প্রত্যাহার করার বিষয়টি লজ্জাজনক। শিক্ষার্থীদের সামনে গেলে তো লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছা করে এখন।’
পরীক্ষার হল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে প্রভাষক আবু সাঈদ বলেন, ‘আপনি জানলেন কীভাবে?’। পরবর্তীতে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অফিসিয়ালি আমার ডিউটি ওই রুমে ছিল না। তাই কাগজে-কলমে এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারবেন না। আমি এটা নিয়ে আর কোনো কথা বলতে চাই না।’
ডিউটি না থাকলে কীভাবে সেখানে ডিউটি করলেন?- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা কমিটি চাইলে কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন।’
এরপর পরীক্ষার বাকি সময়ের জন্য নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয় সহকারী অধ্যাপক লাবণী রায় নামের আরেকজন শিক্ষককে। লাবণী রায়ও ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ফেরত দিতে রাজি ছিলেন না। তবে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় তিনিও পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকেন।
লাবণী রায়ের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনি জানলেন কীভাবে?’ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কথা উঠেছে বলার পর তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করলেই আপনারা নিউজ করেন, কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী তো শিক্ষকদেরও হুমকি দেয়, শিক্ষকদের তো কোনো নিরাপত্তা নেই, তখন তো কিছু করেন না। এটা প্রশাসনিক ব্যাপার। এসব নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। তবে আমরা যতটুকু সম্ভব দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি।’
এ বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির সদস্য প্রভাষক দবিরুল ইসলামকে কল দিলে তিনিও পাল্টা জানতে চান, ‘আপনি জানলেন কীভাবে?’ ‘এই বিষয়ে একটি ভিডিও ফুটেজ আছে’ এমনটি জানালে তিনি বলেন, ‘আমি এখনো দেখিনি। এখন একটু পরীক্ষার কাজে ব্যস্ত আছি। কাল আসেন, সামনাসামনি কথা বলি। চায়ের দাওয়াত রইল।’
এ বিষয়ে উপাধ্যক্ষ (১) ফারহানা ইয়াসমিন টাইমসকে বলেন, ‘আমি সেদিন দুপুরে একটি কাজে বাইরে গিয়েছিলাম। তাই বিকালে পরীক্ষা চলাকালে কী হয়েছে তা বলতে পারব না। তবে পরের দিন এরকম কিছু কথা শুনেছি।’ কলেজে সিসিটিভি আছে এবং সেদিনের ফুটেজ চেক করলেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকার ও শিক্ষামন্ত্রী নকলের বিষয়ে জিরো টলারেন্স অবস্থান নিয়েছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের নীতি বাস্তবায়নে আমরা শিক্ষকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’


