ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) প্রার্থীদের অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিটে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি গ্রহণ করে। রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির।
টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন কেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ দিলো; এ সংক্রান্ত তথ্য রাষ্ট্রপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছে আদালত। ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিষয়টি স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রাখা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ভোলার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ৪ জানুয়ারি হাইকোর্টে এ রিট করেন। রিটে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৪৩ আসনে গত ২৬ ডিসেম্বর প্রার্থী ঘোষণা করে জাতীয় পার্টির জি এম কাদেরের অংশ।
এর আগে ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি (আনিসুল ইসলাম মাহমুদ) ও জেপির নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করা নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ১১৯ আসনে ১৩১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে।
আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় মহাজোট জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই জোটে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ/ইনু), জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), তরিকত ফেডারেশনসহ ১৪টি দল ছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে তারাও অপরাধ করেছে। যে কারণে সংবিধানের ৬৬ (২) (ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তারা নির্বাচনের অযোগ্য হবে।
এর আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে গত বছরের ১২ মে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। এই প্রজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ রিটে উল্লেখ করা হয়।
আইনজীবী শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, ওই প্রজ্ঞাপন দিয়ে সরকার আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। অঙ্গসংগঠন মানে আওয়ামী লীগের সব অঙ্গসংগঠন। সহযোগী সংগঠন মানে ১৪ দল। ভ্রাতৃপ্রতিম মানে হচ্ছে জাতীয় পার্টি। সে জন্য ভ্রাতৃপ্রতিম জাতীয় পার্টি সব সময় আওয়ামী লীগের নীতি–আদর্শকে সমর্থন দিয়েছে। ভ্রাতৃপ্রতিম এই দলের প্রার্থী কীভাবে নির্বাচন কমিশন বৈধতা দিল?


