চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়র পদে থেকে তার রাজনৈতিক তৎপরতা নির্বাচনী পরিবেশ ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে অভিযোগ দলটির।
সোমবার বিকাল ৪টায় নগরীর বিপ্লব উদ্যানে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর নেতারা এই দাবি জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপি চট্টগ্রামের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন, চট্টগ্রাম নগর কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ এরফানুল হক, জোবাইর হোছাইন, নিজাম উদ্দিন, জসিম উদ্দিনসহ অন্যরা।
তারা বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এমন একটি পদে অধিষ্ঠিত থেকে একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতা যদি দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন, তাহলে সেটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট করে এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির প্রার্থী রয়েছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এই বাস্তবতায় বিএনপি মনোনীত একজন ব্যক্তি মেয়র পদে বহাল থাকলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়ার সুযোগ থাকে না।
নির্বাচনের নিরপেক্ষতা রক্ষার স্বার্থে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের পদত্যাগের প্রসঙ্গও টানেন এনসিপি নেতারা।
তারা বলেন, একই নৈতিকতা ও বাস্তবতার আলোকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকেও পদত্যাগ করতে হবে।
এনসিপি নেতারা বলেন, আগামী ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমাবেশের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মসূচির সমন্বয়কারী হিসেবে তিনি মেয়র পদে বহাল থাকলে আসন্ন নির্বাচনে সমান সুযোগের পরিবেশ বজায় থাকবে না বলেও মনে করেন তারা।
আগামী ২৭ জানুয়ারি মেয়র শাহাদাত হোসেনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনের প্রচার শুরু হবে।
এ অবস্থায় চট্টগ্রামের নির্বাচনী পরিবেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে হলে অবিলম্বে শাহাদাত হোসেনের পদত্যাগ প্রয়োজন বলে মনে করেন এনসিপির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপি।
দলটি জানায়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞপ্তিতে ৩৩০ জন সন্ত্রাসীকে নগর এলাকা ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হলেও তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে সন্ত্রাসীদের এলাকা বদলের সুযোগ দেওয়া আইনের শাসনের পরিপন্থী বলে মনে করে এনসিপি।
সন্ত্রাসীরা যেখানেই থাকুক, তাদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করার দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। তা না হলে নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেয় দলটি।


