জাকেরের চোট নিয়ে লুকোচুরি নাকি বিসিবির অস্বচ্ছতা?

জাকেরের চোট নিয়ে লুকোচুরি নাকি বিসিবির অস্বচ্ছতা?
ওয়ানডে খেললেও শ্রীলংকা সফরের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জায়গা হয়নি জাকেরের। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

জাকের আলী অনিক, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ দলের হয়ে তিন ফরম্যাটে খেলার মতো একজন ক্রিকেটারকে বেছে নিতে চাইলে তার নামটাই সবার আগে আসবে। কিন্তু শ্রীলংকা সফরে এক টেস্ট, তিন ওয়ানডে খেললেও জায়গা হয়নি প্রথম টি-টোয়েন্টির একাদশে। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে কেন তাকে খেলানো হয়নি, এর উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ম্যাচ নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত। পাল্লেকেলেতে ৭ উইকেটে হারা ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ জানান, পায়ের মাংসপেশিতে চোট পাওয়াতে জাকেরকে রাখা হয়নি প্রথম টি-টোয়েন্টির একাদশে।

তিন ফরম্যাটে খেলার মতো একজন ব্যাটার কেন ছিটকে গেলেন, তৎক্ষণাৎ উত্তর আসেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া বিভাগ কিংবা ক্রিকেট অপারেশন্স থেকেও। তা জানতে অপেক্ষা করতে হলো ম্যাচের শেষ বলটা গড়ানো পর্যন্ত। অবশ্য আরো দেরি হতো, যদি না শ্রীলংকা সফর কভার করতে বাংলাদেশি ক্রীড়া সাংবাদিকরা সেখানে থাকতেন। নিদেনপক্ষে তাদের কল্যাণেই  জানা যায়, শ্রীলংকায় বাংলাদেশ দলে কী হচ্ছে না হচ্ছে। কারণ শ্রীলংকা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) দেয়া সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ফুটেজ পেতে পেতেও ঘড়ির কাটা প্রায় মাঝরাত ছুঁইছুঁই।

জাকেরের চোট নিয়ে যোগাযোগের অভাব ছিল, টিম ম্যানেজমেন্ট আর কোচিং প্যানেলের মধ্যেও। কারণ টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবালও এই প্রসঙ্গে  জানতেন না কিছুই। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, টেস্ট সিরিজ থেকেই পায়ের মাংসপেশির চোট ম্যানেজ করে খেলছিলেন জাকের। দলের সাথে থাকা ফিজিওর নির্দেশনা মোতাবেক উইকেটকিপার হিসেবে খেলার অনুমতি ছিল তার।

অবশ্য টেস্ট সিরিজে লিটন দাস কিপিং করেছেন, গ্লাভস হাতে ছিলেন প্রথম ওয়ানডেতেও। সেই দুই ম্যাচে আউটফিল্ডে ফিল্ডিং করেছেন জাকের। পরের দুই ম্যাচে টিম কম্বিনেশন বদলানোতে জাকের ফিরে পান কিপিং গ্লাভস। কিন্তু জানা গেছে, টি-টোয়েন্টি সিরিজে লিটন গ্লাভস ছাড়তে চাননি। ওদিকে চোট ম্যানেজ করে খেলা জাকেরকেও উইকেটকিপার হিসেবে খেলানো ছাড়া উপায় নেই। যেহেতু লিটন এই ফরম্যাটের অধিনায়ক, তাই মৃদু চোটের দোহাইয়ে বাদ পড়তে হয় ডানহাতি জাকেরকেই।

আরও পড়ুন

লিটন কেন কিপিং পজিশন ছাড়তে চাইলেন না, সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার হিসেবে আপাতত বেনিফিট অফ ডাউট দেয়া যায়। কিন্তু জাকেরের চোটের খবর নিয়ে বিসিবির লুকোচুরি কিংবা গণমাধ্যমে কিছু জানাতে না চাওয়ার প্রবণতা নিয়েই শনিবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠুকে। ৩০ জুন বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের তৃতীয় সভার সব সিদ্ধান্ত শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই পরিচালকের মুখে একটা কথাই বারবার শোনা গেছে, ক্ল্যারিটি বা স্বচ্ছতা। সোজাসুজিই বলেছেন, সব ধরনের সমালোচনা বিতর্ক এড়াতে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের এই বোর্ড স্বচ্ছতা ধরে রাখতে চায়। অবশ্য জাকেরের চোট ইস্যুতে স্বচ্ছতা যে থাকেনি, সেটা তো এতক্ষণে পরিস্কার।

এর ব্যাখায় বিসিবি পরিচালক মিঠু বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেট বোর্ড গত এক বছর ধরে একটা ট্রানজিশনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আগে ভালো হয়েছে না খারাপ হয়েছে সেসব নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না।আর একটা ব্যাপার,  আমরা কিন্তু আপনাদের কাছ থেকে এডভাইস নিতে তৈরি আছি। আপনারা যেটা বলছেন, পরের বোর্ড মিটিংয়ে আমি আলোচনাটা তুলব। এটা তুলে, যৌক্তিকভাবে যতটা সম্ভব আমরা করব।’

এসবের সাথে দল নির্বাচন, ক্রিকেটারদের সুযোগ পাওয়া, বাদ পড়ার ব্যাখা-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে এখনো রয়ে গেছে কিছু প্রশ্ন। যার দায় পুরোপুরি বর্তায় বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্সে বিভাগের ওপর। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের আচমকা সুযোগ পাওয়ার কথা। যিনি ১৪ মাস ছিলেন জাতীয় দলের বাইরে। তাকে দলে নেয়ার কারণ জানা গেছে সিরিজ শুরুর আগেরদিন অধিনায়ক লিটনের কাছ থেকে।

কিন্তু সাধারণ নিয়মানুযায়ী এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া কিংবা আনুষাঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে গণ মাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার প্রত্যাশা থাকে ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ সম্পর্কিত কোনো একজন প্রতিনিধির। যেটা একেবারেই অনিয়মিত। তাই মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান মিঠুও জানালেন, একটা নির্দিষ্ট বিরতি শেষে এই প্রক্রিয়া চালু করতে বোর্ড পরিচালকের সাথে কথা বলবেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি সভাপতি ও বোর্ডের বাকিদের সাথে এই বিষয়ে কথা বলব। কারণ আপনারা তো দেখছেনই, নতুন সভাপতি আসার পর চেষ্টা করছি ক্ল্যারিটি রাখার জন্য। ভুল হতে পারে আমাদের, ভুল থাকবেই। তবে আমাদের চেষ্টা থাকবে ভুল যত কমানো যায়।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad