জয়পুরহাট সদর উপজেলার দুর্গাদহ ঢুলিপাড়া গ্রামে বন্দনা রানী দাস নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে স্বামী রাজকুমার দাসকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে বন্দনাকে তার স্বামী পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজকুমার।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানিয়েছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে রাজকুমার প্রায়ই তার স্ত্রীকে মারধর করতেন। গত শনিবার রাতে বন্দনা তার স্বামীর কাছে একটি সেলাই মেশিন চান। রাজকুমার তা কিনে দিতে অসম্মতি জানালে তাদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। রোববার ভোরে পরিবারের সদস্যরা বন্দনার আত্মহত্যার কথা জানিয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং রাজকুমারকে আটক করে।
বন্দনার বাবা ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রাজকুমারের অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এই কারণে তিনি বন্দনাকে নির্যাতন করতেন এবং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
নিহতের বোন সাধনা জানান, বন্দনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে রাজকুমার জানান, টাকা না থাকায় তিনি পরে সেলাই মেশিন কিনে দিতে চেয়েছিলেন। এই নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে রাত ৩টার দিকে তিনি জানতে পারেন বন্দনা গলায় ফাঁস দিয়েছেন। তিনি তাকে হত্যা করেননি।
জয়পুরহাট থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ নিচে নামানো অবস্থায় পাওয়া যায়। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।


