চট্টগ্রামে ২৬ বছর আগে জনতা ব্যাংকের শেখ মুজিব রোড কর্পোরেট শাখা থেকে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় ব্যাংকের সাবেক পাঁচ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ধারায় মোট ৮ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৪৬ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জনতা ব্যাংকের শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার সাবেক কর্মকর্তা মো. আবু তৈয়ব, বাবুল চন্দ্র মজুমদার, রনেন্দ্র বিকাশ সাহা, মোসলেম উদ্দিন এবং জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাবেক এসপিও (আইডি রিকন) মো. সাঈদ হোসেন।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একই শাখার সাবেক কর্মকর্তা নুরুল হুদাকে খালাস দিয়েছে আদালত।
এ ছাড়া আরেক আসামি আবু বকর সিদ্দিকীর রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. এনামুল ইসলাম জানান, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও নথিপত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় পাঁচ বছর, দুই বছর এবং এক বছরসহ মোট আট বছর কারাদণ্ড দেন। সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হবে।
রায় ঘোষণার সময় পাঁচ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, জনতা ব্যাংকের শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা ও গ্রাহক যোগসাজশে ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাব থেকে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করেন। পরে সেই অর্থ বিভিন্ন চলতি ও এসটিডি হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। বিশেষ পরিদর্শন দলের তদন্তে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য উঠে আসে।
১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় ২০০০ সালের ৬ এপ্রিল জনতা ব্যাংকের শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার তৎকালীন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আবুল কাসেম মিয়া নগরের ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে ২০১৩ সালের ৬ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।


