কুমিল্লাকে বিভাগ করা যদি জনগণের দাবি হয়, তবে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার দুপুরে চাঁদপুরের জনসভায় পৌঁছানোর পথে কুমিল্লার বরুড়ায় অনুষ্ঠিত এক পথসভায় তিনি একথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লা নামে বিভাগ হওয়াটা যদি এই অঞ্চলের জনগণের দাবি হয়ে থাকে ইনশাআল্লাহ সেটির বাস্তবায়ন হবে। বিএনপি সরকার জনগণের সব দাবি পর্যায়ক্রমিকভাবে পূরণ করবে।’
প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের বিষয়ে শিগগিরই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন।
সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ কুমিল্লাবাসীর পক্ষে ‘কুমিল্লা’ নামে কুমিল্লা বিভাগ এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তুলে ধরেন। কর্মীরাও তুমুল করতালি দিয়ে কৃষিমন্ত্রীকে সমর্থন জানায়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিএনপি সরকারের শক্তি উল্লেখ করে তাদের সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, প্রত্যেক পরিবারের হাতে ধীরে ধীরে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছাব, কৃষক কার্ড দেব এবং মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করব। আমরা ইতোমধ্যে সেই কাজগুলো শুরু করেছি। বাংলাদেশের প্রায় ৬০ হাজার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। কৃষক ভাইদের হাতে কৃষক কার্ড দেওয়ার কাজ অল্প করে হলেও শুরু করা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, বিএনপি দেশের মানুষকে যে কথা দেয়, সরকারে থাকলে তা সব সময় রক্ষা করার চেষ্টা করে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছিলাম। একই সময়ে স্বাধীন হওয়া এশিয়ার অন্য দেশগুলো আজ আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে গিয়েছে। কারণ, আমরা এক বিরাট স্বৈরাচারের কবলে পড়েছিলাম। ১৯৭১ সালে যেভাবে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা হয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে দেশের মানুষ এবার স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। তবে শুধু দেশ স্বাধীন করলেই হবে না, এখন প্রধান কাজ হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরির নিশ্চয়তা বিধান করা হবে। মা-বোনেরা যাতে শিক্ষায় ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের কৃষক ভাইদের স্বাবলম্বী করা এবং দেশে নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপন করে বেকার সমস্যার সমাধান করা হবে। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমনভাবে নিশ্চিত করা হবে, যাতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দিনে-রাতের যেকোনো সময় নিরাপদে চলাচল করতে পারেন এবং ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।’
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তফা মিয়া, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা (টিপু), কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারীসহ (আবু) জ্যেষ্ঠ নেতারা। সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ (ওয়াসিম)।


