ছিনতাইয়ের পর ছুরিকাঘাতে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আসামি মাসুম মিয়া ওরফে কালুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ ঘটনায় অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার আরেক আসামি ইউনুস মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ -৬ এর বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পী এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাশেম তথ্যগুলো নিশ্চিত করেন। এ সময় সাজাপ্রাপ্ত এবং খালাসপ্রাপ্ত উভয়ই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এ দিন আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী হাবিবুর রহমান উপস্থিত থাকলেও আসামিপক্ষের কেউ ছিলেন না।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে ২০১৬ সালের নভেম্বরে রাজধানী ঢাকার বংশালের সিদ্দিক বাজারে ছিনতাইকারীর ছুরির আঘাতে মুদি দোকানদার আব্দুল কুদ্দুস নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়। এতে মাসুম মিয়া ও ইউনুস মিয়াকে আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ওই বছর ১০ সেপ্টেম্বর কামরাঙ্গীচর থেকে ভোর রাতে বাড়ি যাওয়ার সময় রিকশাযোগে ফুলবাড়িয়া বাসটার্মিনাল রওনা হন আব্দুল কুদ্দুস। তিনি বংশাল থানার ঘোড়ার গলি এলাকায় পৌঁছালে দুইজন ছিনতাইকারী এসে তার রিকশা অবরুদ্ধ করেন এবং তার কাছে থাকা সব কিছু ছিনিয়ে নেন। নগদ টাকা ও অন্য সামগ্রী নেওয়ার পর অভিযুক্তরা ওই ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে আব্দুল কুদ্দুসকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওইদিন সকালেই ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুসের চাচাতো ভাই মো. কামাল হোসেন বাদী হয়ে বংশাল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
ঘটনার দুই মাস পরে ১০ নভেম্বর মামলাটি তদন্ত শেষে দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক মো. শহীদুল ইসলাম।
২০১৭ সালের মার্চ মাসের ৭ তারিখ মামলাটি চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর পরে মোট ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ।


