বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে ছয়টি ব্যাংকে চালানো বিশেষ নিরীক্ষায় ‘খুবই অস্বাভাবিক’ ধরনের অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে এমন ঘটনাও ধরা পড়েছে, যেখানে ঋণপত্র (এলসি) পরিশোধের পরও গ্রাহকের হিসাবে সেই অর্থ দেখানো হয়নি।
এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, গত ২৩, ২৪ ও ২৫ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের ছয়টি বিশেষ দল ছয়টি ব্যাংকে নিরীক্ষা চালায়। নিরীক্ষার মূল বিষয় ছিল বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং আইটি ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, নিরীক্ষা দলের সঙ্গে গত শনিবার ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। সেখানে একাধিক গুরুতর অনিয়মের তথ্য সামনে আসে।
গভর্নরের ভাষায়, ‘আমরা অনেক ফাইন্ডিংস পেয়েছি, যেগুলো খুবই অস্বাভাবিক ধরনের। এমনও দেখা গেছে, ২০২৫ সালে একটি এলসির পেমেন্ট হয়েছে, কিন্তু সেটি গ্রাহকের হিসাবে দেখানো হয়নি। অর্থাৎ এই ধরনের ঋণ গোপন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, এসব অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনা করা হবে। ‘আমরা আরও অনেক স্পেশাল অডিট টিম গঠন করব। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে,’ যোগ করেন গভর্নর।
অনিয়মের বিরুদ্ধে শাস্তির নীতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন তিনি। গভর্নর জানান, সম্প্রতি ব্যাংকিং তদারকি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, কোনো ধরনের বিচ্যুতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আগে হয়তো অনেক ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন শাস্তি দেওয়া হতো। এখন আমরা চাই, অনিয়মের গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রয়োগ করা হোক।’
সংবাদ সম্মেলনে অতীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন তদন্ত অসমাপ্ত থেকে যাওয়া এবং কিছু তদন্তের নথি উধাও যাওয়ার অভিযোগ তুলে পুরোনো তদন্তগুলো পুনরায় চালুর অনুরোধ জানান টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিবেদক। জবাবে গভর্নর বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি জানান, খেলাপি ঋণ কমানো, বিশেষ নিরীক্ষা জোরদার, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি এবং আন্তর্জাতিক হিসাবমান বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশেষ নিরীক্ষায় কোন ছয়টি ব্যাংক অন্তর্ভুক্ত ছিল বা অনিয়মের আর্থিক পরিমাণ কত, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।


