বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতায় অস্বস্তিতে পড়েছে ওয়াশিংটন।
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য ঢাকাকে যেন আর বেইজিংয়ের ওপর নির্ভর করতে না হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করবেন তিনি।
পেশাদার কূটনীতিক ক্রিস্টেনসেনের রয়েছে এশিয়া বিষয়ক দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশে তার নিয়োগের নিশ্চিতকরণ শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সামনে উপস্থিত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বের কোনো দেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রথমে কাউকে মনোনয়ন দেন প্রেসিডেন্ট। এরপর সেই মনোনয়ন অনুমোদনের জন্য সিনেটে পাঠানো হয়। সিনেটে শুনানি হয়, মনোনীত ব্যক্তিকে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। শুনানি শেষে সিনেট অনুমোদন দিলে তবেই নতুন রাষ্ট্রদূতের নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
শুনানিতে সিনেটর পিট রিকেটস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার চীনের তৈরি ২০টি জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে। তিনি জানতে চান, রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে গেলে কীভাবে তিনি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারবেন?
জবাবে ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে চীনা প্রভাব নিয়ে আপনার উদ্বেগের সঙ্গে আমি একমত। বাংলাদেশের চীন থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারলে আমি দেশটির সরকার এবং সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কথা বলব। তাদের স্পষ্ট করে জানাবো যে, চীনের সঙ্গে সামরিক সম্পৃক্ততা, সামুদ্রিক সম্পর্কে অংশগ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোয় চীনা সম্পৃক্ততা বাড়ালে কী ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি হতে পারে।’
‘একই সঙ্গে আমি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের সুযোগ ও সুবিধাগুলিও ঢাকার সামনে তুলে ধরব। বিশেষ করে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়টিতে জোর দেব।’
বক্তব্যের শুরুতে ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উজ্জ্বল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ সেখানে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ আগামী বছরের শুরুতে ভোট দিতে যাচ্ছে, এটি হবে গত কয়েক দশকের মধ্যে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। যার মাধ্যমে দেশের মানুষ একটি নতুন সরকার এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি নতুন পথ বেছে নেবে।’


