কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর কেটে অবাধে মাটির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একদল প্রভাবশালী অসাধু ব্যবসায়ী। উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের পুটিমারী ফকিরেরভিটা এলাকায় কাউকে তোয়াক্কা না করে নদী তীর থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করায় হুমকিতে পড়েছে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডানতীর রক্ষা প্রকল্প।
এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে আসন্ন বর্ষায় পানি বাড়ার সাথে সাথেই ওইসব এলাকা সরাসরি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে শুধু সরকারের মেগা প্রকল্পই নয়, বরং নদী তীরবর্তী জনপদ, আবাদী জমি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত এভাবে মাটি কাটার ফলে তীর সংলগ্ন এলাকাগুলো সমতলে পরিণত হচ্ছে। ফলে সামান্য পানি বাড়লেই এসব জমি নদীর পেটে চলে যাবে এবং গোটা এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
গত সোমবার সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ভেতরে ফকিরেরভিটা এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের একদম সামনে দুটি স্থানে মাটি কাটা হচ্ছে। সারি সারি ট্রলিতে করে নদী তীরের মাটি বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ সময় ছবি তোলার চেষ্টা করলে মুহূর্তের মধ্যেই ১৫-১৬টি ট্রলি মাটি না নিয়েই দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়ে।
মাটি ব্যবসায়ীরা এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এমনকি শ্রমিক বা চালকদের জিজ্ঞাসা করেও মালিকদের নাম জানা সম্ভব হয়নি। তবে রফিকুল ইসলাম নামে এক ট্রলি মালিকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তার নিজস্ব জমি থেকে সামান্য মাটি তুলে তিনি ব্যক্তিগত কাজে লাগাচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামবাসী জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের এই তীরটি তাদের গ্রামের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। এখান থেকে মাটি সরিয়ে নিলে তীর রক্ষা প্রকল্পসহ সামনের গ্রামগুলো ভেঙে যাবে। ফলে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করবে এবং সরকার ঘোষিত নৌ-বন্দর পুনঃস্থাপনের পরিকল্পনাও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বে।
তারা আরও জানান, কিছু জমির মালিক সামান্য টাকার লোভে পড়ে মাটি ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা চুক্তির চেয়েও কয়েকগুণ বেশি মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী বারবার নিষেধ করলেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে বলে তারা হতাশ প্রকাশ করেন।
এই বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক জানান, ওই এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ করতে ইতিপূর্বেও বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে উপজেলা প্রশাসন।


