বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের সোনালী দিনের কিংবদন্তি চিত্রনায়ক ও নৃত্যশিল্পী জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন।
জাভেদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী, চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরী। তিনি জানান, সকালে জাভেদের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। কিছুদিন আগে হাসপাতাল থেকে বাসায় এনে তার চিকিৎসাসেবা চলছিল। হাসপাতালের চিকিৎসক ও দুজন নার্স নিয়মিত বাসায় এসে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। সকালে নার্সরা এসে জানান, তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানও এক ফেসবুক পোস্টে ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন! বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক জাভেদ ভাই আজ (বুধবার) সকালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। নিশান সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছিলেন। আরও অনেক সুপারহিট সিনেমা তিনি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন।’
জাভেদের আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। তিনি ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে স্বপরিবারে পাঞ্জাবে চলে যান। ষাটের দশকে নৃত্যপরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে তার পথচলা শুরু। কায়সার পাশা পরিচালিত উর্দু সিনেমা ‘মালান’-এ প্রথম নৃত্য পরিচালনা করেন তিনি।
১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে অভিনয়জীবন শুরু করেন জাভেদ। এরপর তিনি প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পাশাপাশি নৃত্য পরিচালনা করেছেন শতাধিক ছবিতে।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘নিশান’, ‘মালকা বানু’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘শাহজাদী’, ‘রাজকুমারী চন্দ্রবান’, ‘কাজল রেখা’, ‘সাহেব বিবি’সহ আরও বহু জনপ্রিয় ছবি। বিশেষ করে ‘নিশান’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় ও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
ব্যক্তিগত জীবনে ইলিয়াস জাভেদ ১৯৮৪ সালে চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন।
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একজন নায়ক, নৃত্যশিল্পী ও নৃত্য পরিচালকের সমন্বিত প্রতিভা হিসেবে ইলিয়াস জাভেদ স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।


