বাংলাদেশের চা-শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, শোষণ ও মানবেতর জীবনের চিত্র তুলে ধরতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চস্থ হয়েছে পথনাটক ‘১৭০ টাকা’।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন পায়রা চত্বরে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা নাটকটি পরিবেশন করেন।
আয়োজকদের মতে, চা-বাগানের ‘অস্বস্তিকর বাস্তব’ সমাজ ও রাষ্ট্রের সামনে আনাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
‘চল মিনি আসাম যাব, দেশে বড় দুখ রে’ গানের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই নাটকে শ্রমিকদের প্রতিদিনের সংগ্রাম, নামমাত্র মজুরি, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং বংশপরম্পরায় চলে আসা দাসত্বসদৃশ জীবনযাপন ফুটিয়ে তোলা হয়।
নাটকের মাঝামাঝি সময়ে প্রতীকী চরিত্রের মাধ্যমে শ্রমিকদের ওপর মালিকপক্ষের নিপীড়ন ও অমানবিক কর্মপরিবেশের দৃশ্য তুলে ধরা হয়।
নাটকটির লেখন ও নির্দেশক মুবাশ্বির মাহমুদ নিবিড় টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘দেশের অন্যতম পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে চা-শ্রমিকেরা এখনো স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার।’
তিনি জানান, সংস্কৃতির কর্মী হিসেবে তারা রাষ্ট্রের কাছে এই বঞ্চনার প্রতিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
নাটকের মাধ্যমে চা শ্রমিকদের নিয়ে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন আয়োজকরা। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবা ও নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করা, চা-বাগানের শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং চা-শ্রমিকদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার ও জমির মালিকানা প্রদান।
অভিনয়ে অংশ নেওয়া ওহিদুজ্জামান টনি টাইমসকে বলেন, ‘চা-শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, এটি কোনো দয়া বা সহানুভূতির বিষয় নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, যেটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য না।’
‘ও আলোর পথযাত্রী, এ যে রাত্রী, এখানে থেমো না’ গানের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই নাটকে আরও অভিনয় করেন নিলয় বালা, আফরীনা আবতাহি আতীশা, তাসনিয়াদ শাওলিন, নাহিদ আলম ও তাসকিন খাঁন।


