বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চিঠি দিয়েছে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। তারা আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি নির্বিচার গ্রেপ্তার, নিপীড়ন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)–এর ওয়েবসাইটে চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। এতে স্বাক্ষর করে এইচআরডব্লিউ, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে), সিভিকাস, ফোরটিফাই রাইটস, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস ও টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।
চিঠিতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লব ও শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার মানবাধিকার পুনর্বহাল ও আইনি সংস্কারে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে নিরাপত্তা খাতে সংস্কার এখনো হয়নি, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত হয়নি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তার–আটক অব্যাহত রয়েছে।
ছয় সংস্থা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে— র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করা ও ডিজিএফআইয়ের ক্ষমতা সীমিত করা, গুমকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫ সংশোধন করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফেরার পথে বড় বাধা, যা অবিলম্বে তুলে নেওয়া উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ নাগরিকদের অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রে যুক্ত হওয়ার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করে।
এ ছাড়া সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন বন্ধ করা, শরণার্থীশিবিরে তাদের চলাফেরা, জীবিকা ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানায়।
চিঠিতে জোর দিয়ে বলা হয়, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত মানবাধিকার রক্ষায় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানো ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যাতে দেশটি ভবিষ্যতে আবার দমন-পীড়নের পথে না যায়।


