চাঁদাবাজির মামলায় ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদসহ রিমান্ডে ৪

চাঁদাবাজির মামলায় ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদসহ রিমান্ডে ৪
আদালতে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টায় আসামি আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান ওরফে রিয়াদ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর গুলশানে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। হাতেনাতে ধরা পড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাঁচ নেতাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কথিত সমন্বয়ক রিয়াদসহ ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

গুলশান থানার ডিউটি অফিসার আঞ্জুমান আরা জানান, শনিবার রাতে হাতেনাতে আটক করা পাঁচজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। ভিকটিম সিদ্দিক আবু জাফর নিজে বাদি হয়ে মামলাটি করেছেন।

এ মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সদস্য মো. সাকাদাউন ও সাদাব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ সংগঠক ও কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সেলের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান ওরফে রিয়াদ এবং আমিনুল ইসলাম।

রোববার বিকালে আসামিদের মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান ওরফে রিয়াদ, মো. সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব ও ইব্রাহিম হোসেন মুন্নাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত শুনানিশেষে তাদের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

 

আরও পড়ুন

গুলশান থানায় দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলার এজাহার।

 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নেত্রী শাম্মী আহমেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফরের কাছে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দিয়ে গত ১৭ জুলাই আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান ওরফে রিয়াদ এবং কাজী গৌরব অপু ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তারা সেদিন ১০ লাখ টাকা নিয়ে যান। একদিন পর তারা রাত সাড়ে দশটার দিকে ফের বাসাটিতে ঢুকতে চেষ্টা করলে বাদী পুলিশে খবর দেন।

চাঁদার অবশিষ্ট ৪০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করে শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ৬ আসামি গুলশানের বাড়িটিতে হানা দেয়। তখন বাদি বাড়ির বাইরে ছিলেন। তিনি সংবাদ পেয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান। গুলশান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় কাজী গৌরব অপু কৌশলে পালিয়ে যান।

চাঁদাবাজির এ ঘটনায় শনিবার রাতেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আসামিদের বহিষ্কার করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক নীতিমালা ও শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহীম হোসেন মুন্না এবং সদস্য মো. সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাবকে সাংগঠনিক পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হলো।

অন্যদিকে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ বহিস্কার করেছে আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান ওরফে রিয়াদ এবং আমিনুল ইসলামকে। তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগরের সংগঠক ও কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সেলের সদস্য।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad