চট্টগ্রামের কাট্টলীর রানী রাশমনি ঘাটে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে সড়কে মাছ এবং বরফ ঢেলে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা।
বুধবার সকালে রানী রাশমনি ঘাট এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এতে শতাধিক জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে ‘খাস কালেকশন’-এর নামে একটি পক্ষ ঘাটে মাছ বিক্রি করতে আসা জেলে, মাছ ক্রেতা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করছে। বরফ, পানির বোতলসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপরও অর্থ নেওয়া হচ্ছে। এতে জেলে ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
রানী রাশমনি ঘাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ উদ্দীন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। আগে কখনো এ ধরনের চাঁদা দিতে হয়নি। এখন মাছ বিক্রি ও কেনাবেচার প্রতিটি পর্যায়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। বরফ, পানিসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপরও চাঁদা বসানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী নগরের সব বাজার ও ঘাট সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত। দীর্ঘদিন বিভিন্ন ঘাট আওয়ামী লীগ নেতারা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল। বর্তমানে সেগুলো উদ্ধার করে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘রানী রাশমনি ঘাট এখনো ইজারা দেওয়া হয়নি। কেউ যদি মাছ, বরফ বা অন্য কোনো পণ্যের ওপর অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্তরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন এবং সিটি করপোরেশনকেও লিখিতভাবে জানাতে পারেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানী রাশমনি ঘাটকে কেন্দ্র করে প্রায় ৬০০ জেলে পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। জেলে ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


