চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় যুবক মোহাম্মদ হাসান প্রকাশ রাজু (২৪) হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি এবং পালিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপকমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সৈয়দুল করিম (২৭), মো. আবদুল মান্নান (৩৭), মো. ইউনুচ, মো. আয়াতুল্লাহ আলী আদনান (২১), মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক প্রকাশ খোকন (৪৮) ও আজগর আলী প্রকাশ বাচা মিয়া (৩৯)।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৭ মে রাত পৌনে ১০টার দিকে রৌফাবাদ এলাকার শহীদ মিনার কলোনির পাশে বাঁশবাড়িয়া গলির আব্দুল হাই বাড়ি দেলোয়ারের ভাড়াঘরের সামনে হাসান রাজুকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। এ সময় ১১ বছর বয়সী শিশু রেশমি আক্তার চোখে গুলিবিদ্ধ হয়। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এর পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার পেছনে রাউজানের কদলপুর এলাকার পুরোনো বিরোধ কাজ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে রাউজানের কদলপুর এলাকায় ‘মধু নাসির’ নামে এক ব্যক্তি খুন হন। ওই হত্যা মামলার আসামি ছিলেন রাজু। সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতেই তাকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার সৈয়দুল করিম এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে গুলি চালান এবং রাজুর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘাতকদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাটি শনাক্ত করা হয়। পরে অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নানকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল শ্যুটার করিমকে আটক করা হয়। এরপর করিমের বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড কার্তুজ এবং রক্তমাখা টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার আবু বক্কর ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ছয়টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া করিম ও আজগর আলীর বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আসামিদের অধিকাংশের আদি বাড়ি রাউজানের কদলপুর এলাকায় এবং তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
উপকমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। একই ঘটনায় দুটি মামলা হয় না। আহত শিশু রেশমি আক্তার অবশ্যই সুবিচার পাবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


