প্রযোজকদেকে বলা হয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির অভিভাবক। তাদের যে সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি তা গত তিন বছর চলছে প্রশাসকের মাধ্যমে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটির দেখভাল করেন।
শুধু গত তিন বছর নয়, গত এক দশকের বেশির ভাগ সময়ই প্রতিষ্ঠানটি চলেছে প্রশাসকের মাধ্যমে। বিভিন্ন সময়ে প্রযোজকদের করা রিট, মামলা কিংবা অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন করতে পারেনি সমিতি। ফলে নিয়ম অনুযায়ী এসেছে প্রশাসক।
প্রযোজক সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে প্রযোজক নাসির হোসেনের করা রিটের কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। পর পর তিনবার কেউ নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না। এফবিসিসিআইর অধীন সংগঠনের এমন নির্বাচনী রীতির খেলাপ করা হয়েছে মর্মে নাসির হোসেন বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। তার রিটের প্রেক্ষিতে আদালত তিন মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেছিল।
২০২২ সালের ২১ মে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হাইকোর্টের রিটের প্রেক্ষিতে ওই নির্বাচন বাতিল করা হয়। সেই সঙ্গে হাইকোর্টের রিট মেনে ভোটার তালিকায় সংশোধনী আনে নির্বাচন কমিশন।
ভোটার তালিকা সংশোধন করায় প্রার্থী, প্রার্থীর প্রস্তাবক ও সমর্থক ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার কারণে সাধারণ সদস্যপদ প্রার্থী থেকে ডিপজল, সেলিম খানসহ ১৫ জন ও সহযোগী সদস্যপদ প্রার্থী থেকে চারজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গিয়েছিল। একই সঙ্গে সালিসি ট্রাইব্যুনাল, এফবিসিসিআইর ২০২২ সালের ১৯ মের রায় এবং সংশোধিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী এর আগে বাতিল হওয়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী খোরশেদ আলম ও শামসুল আলমের প্রার্থিতা ফিরে পান। কিন্তু পরবর্তীতে সে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এখন পর্যন্ত। ১৭৫ জন পূর্ণ সদস্য ও ৬০০ জন সহযোগী সদস্যের সংগঠনটির নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে?
প্রযোজক নেতা সামসুল আলম বলেন, ‘এক যুগের বেশির ভাগ সময় ধরে আমাদের সমিতি চলেছে প্রশাসকের অধীনে। ২০১৯ সাল থেকে মাত্র ১৪ মাসের মতো নির্বাচিত কমিটি সমিতি চালাতে পেরেছিল। এরপর আর পারেনি।’
এ বিষয়ে সমিতির বর্তমান প্রশাসক রাজ্জাক হোসেনের সঙ্গে সভা করেছে সদস্যরা। শনিবার অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন ৮০ জনের মতো সদস্য।
সভায় উপস্থিত সদস্য খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘প্রশাসক আমাদের কথা দিয়েছেন তিনি যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করবেন। আমরা তাকে বলেছি, নির্বাচিত কমিটি না থাকায় সিনেমা মুক্তি দেওয়া, হল থেকে ঠিকঠাক টাকা তোলা, সিনেমা নির্মাণ—এ রকম নানা বিষয়ে প্রযোজকরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এর সমাধানে প্রয়োজন নির্বাচিত কমিটি।’
সামসুল আলম বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্যি আমাদের নির্বাচন বারবার স্থগিত হয়েছে আমাদের সদস্যের করা মামলার কারণে। এটি নিয়েও আমরা সদস্যরা বসব।’
এদিকে সভায় দ্রুত নির্বাচন আয়োজন ছাড়াও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সমিতির নামে ১ কোটি টাকার একটি ফান্ড গঠন, যে টাকা ইতোমধ্যে সদস্যরা দিয়েছেন। অসুস্থ অভিনেত্রী সুজাতা ও সমিতির মৃত স্টাফ জয়নালের পরিবারকে সহায়তার জন্য কমিটি গঠন করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।


