জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) স্নাতক প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা ধীরে ধীরে কমানোর পর এবার ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে পুরোপুরি বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে গত বছরের তুলনায় সব ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ কমানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ২ জানুয়ারি শুরু হবে। স্নাতক প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য পোষ্য কোটা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বছর এইচএসসি পরিক্ষার ফলাফল সার্বিক ভাবে অবনতি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় সব ইউনিটে এইচএসসি ২০২৫ সালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ যোগ্যতার মান শূন্য দশমিক ৫০ কমানো হয়েছে।’
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরও জানান, ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক দিন ধরে শিক্ষার্থীদের পোষ্য কোটা বাতিলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘এ’ ইউনিটে (বিজ্ঞান অনুষদ) মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে (চতুর্থ বিষয়সহ) মোট জিপিএ–৭ দশমিক ৭৫ প্রয়োজন। যা গতবছর ছিল ৮। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে মাধ্যমিকে অন্তত ৪ এবং উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ–৩.২৫ থাকতে হবে।
‘বি’ ইউনিটে (কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ) মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট জিপিএ–৭, আর বিজ্ঞান ও ব্যবসায় বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য জিপিএ–৭ দশমিক ৫০ নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘সি’ ইউনিটে (ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ) ন্যূনতম যোগ্যতা মোট জিপিএ–৭ দশমিক ৫০। ‘ডি’ ইউনিটে (সমন্বিত ইউনিট) সব বিভাগের শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবে, যেখানে ন্যূনতম জিপিএ–৭ থাকতে হবে।
তবে এ সুযোগ শুধু এইচএসসি-২০২৫ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য। যারা দ্বিতীয়বারের মত পরিক্ষা দেবে তাদের জন্য আগের যোগ্যতাই বজায় থাকবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অনেকের ফলাফল খারাপ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যারা দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেবে তাদের জন্য এ সুযোগ থাকছে না। তাদের জন্য আগের জিপিএ যোগ্যতাই বহাল থাকবে।’
একাডেমিক শাখা থেকে জানা যায়, ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ২ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে। এরপর ৩ জানুয়ারি ‘ডি’ ইউনিট, ৯ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিট, এবং ১০ জানুয়ারি ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও, উপ-ইউনিটগুলোর মধ্যে, ‘ডি-১’ ইউনিটের (শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগ) পরীক্ষা হবে ৫ জানুয়ারি, ‘বি-১’ ইউনিটের ৭ জানুয়ারি এবং ‘বি-২’ ইউনিটের পরিক্ষা ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে ১ ডিসেম্বর এবং চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় ওয়ার্ড কোটা বা পোষ্য কোটা বাদ পড়লেও নয় ধরনের কোটা বহাল থাকবে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বিদেশি শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, অনগ্রসর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালি, শারীরিক প্রতিবন্ধী, বিকেএসপি খেলোয়াড়, পেশাদার খেলোয়াড় ও দলিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী কোটা থাকবে।
গত জুলাই মাসের ছাত্র আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীরা ওয়ার্ড কোটা বাতিলের দাবি জানায়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে কোটা দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দেওয়া হয় এবং এবার পুরোপুরি বাতিল করা হলো।


