চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন দলে পদ স্থগিত হওয়া ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।
সোমবার তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দের চিঠি হাতে পেয়েছেন। এটি সোমবারই তিনি রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গিয়াস কাদের চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী খোরশেদ আলম।
চট্টগ্রাম-৬ আসনে গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন গিয়াস কাদের চৌধুরী। এই মনোনয়নের বিরুদ্ধে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম আকবর খন্দকারের সমর্থকরা বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে ২৮ ডিসেম্বর দল থেকে গোলাম আকবর খন্দকারকেও মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়। তারা দু’জনই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। রিটার্নিং অফিসারের যাচাই-বাছাইয়ে দু’জনের মনোনয়নপত্রই বৈধ হয়।
বর্তমান নির্বাচনী আইনে কোনো দলের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নের সুযোগ রয়েছে। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে একজন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দের জন্য রিটার্নিং অফিসার বরাবর দলের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে জানতে গোলাম আকবর খন্দকারের ছেলে ব্যারিস্টার তারেক আকবরকে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।
প্রতীক বরাদ্দের চিঠিপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দলীয় কর্মীদের বিভ্রান্তি দূর হলো। মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, বুধবার চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করবেন রিটার্নিং অফিসার।
রাউজানের রাজনীতিতে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকারের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ১৯৯৬ সাল থেকে দলের মনোনয়ন ও নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এই বিরোধ আরও সহিংস রূপ নেয়। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সশস্ত্র সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হন।
এই পরিস্থিতিতে দলীয় হাইকমান্ড উভয়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। গিয়াস কাদের চৌধুরীর ভাইস চেয়ারম্যান পদ স্থগিত করা হয় এবং গোলাম আকবর খন্দকারের নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আবারও উত্তাপ ছড়ায়।


