চট্টগ্রামে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) একটি কারখানায় আগুনের ঘটনায় একটি চীনভিত্তিক রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম পুড়ে গেছে। বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে ওই আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৭টি ইউনিটের সঙ্গে যোগ দেয় নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী।
ইপিজেডের ৫ নম্বর রোডে অবস্থিত অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইলস নামক একটি ভবনের পঞ্চম তলা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য তলায়, ওই ভবনে একাধিক শিল্প ইউনিট রয়েছে।
চীনভিত্তিক রপ্তানি প্রতিষ্ঠান জিহং মেডিকেল প্রোডাক্টস বিডি কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানান, আগুনে অন্তত ৩০টি কনটেইনারে থাকা পণ্য পুরোপুরি পুড়ে গেছে। এসব পণ্যের মধ্যে আইসোলেশন গাউন, অ্যাপ্রোন, সার্জিক্যাল ক্যাপ ও রোগীর ক্যাপ ছিল। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির জন্য তৈরি করা হয়েছিল এগুলো।
প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (কমার্শিয়াল–এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট) বোরহান উদ্দিন তামিম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘অ্যাডামস ক্যাপস ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় আমরা মেডিকেল অ্যাপ্রোন ও মাস্ক তৈরি করি। পঞ্চম তলার গুদামে আগুন লাগার পর খুব দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে।’
ভবনে ৮০০ শ্রমিক ও ৩ জন বিদেশি কর্মচারী ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সৌভাগ্যক্রমে সবাই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে, কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রায় ৩০ হাজার ডলার মূল্যের ৩০টি কনটেইনার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রায় ৮০০টি যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
অগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ পুরোপুরি বলা যাবে।
ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামির হোসেন বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাটি মূলত চিকিৎসা সামগ্রী উৎপাদন করে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আছে, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’
চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুস সোবহান বলেন, ‘বর্তমানে ভবনের ভিতরে কেউ নেই। সব শ্রমিক নিরাপদে বেরিয়ে এসেছে। যেন আর কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে তাই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে পাশের আরেকটি পোশাক কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’


