চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানা এলাকার চেয়ারম্যানঘাটায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, উপ-পুলিশ কমিশনারের ওপর হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগে ৫৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান এতথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সহিংস ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ৫৮ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে শুধু সহিংসতায় অংশ নেওয়ার অভিযোগই নয়, বরং আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি মো. মনির হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার পরিকল্পনারও অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, সরকারকে বিব্রত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে এ পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে সময়মতো অভিযানে নেমে পুলিশ সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়।
গত ২১ মে চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় স্থানীয় এক ডেকোরেশন কর্মচারী মো. মনির হোসেনের বিরুদ্ধে সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা। একপর্যায়ে পুলিশের একটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এলাকাজুড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
সহিংসতার মধ্যেই অভিযুক্ত মনির হোসেনকে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়। এরপর রাত থেকেই পুলিশ, ডিবি ও র্যাবের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে সোমবার রাতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে, ২১ মে রাতে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত মনিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন শিশুর বাবা মেহেদী হাসান। বর্তমানে অভিযুক্ত মনির কারাগারে রয়েছেন।


