চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার চালিতাতলী এলাকায় সরওয়ার হোসেন বাবলা হত্যাসহ ২৪ ঘণ্টায় সংঘটিত একাধিক গুলিবর্ষণ ও সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এর মধ্যে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে রাউজানের ইশতিয়াক চৌধুরী ওরফে অভিকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব-৭ এর একটি দল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার দুপুরে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আটকদের মধ্যে নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগকালে সরওয়ার বাবলা হত্যা মামলায় আলাউদ্দিন ও হেলালকে চান্দগাঁওয়ের হাজিরপুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকায় ৫ জন আহতের ঘটনায় ইসতিয়াক চৌধুরী, জ্যাকি ও জনিকে চকবাজারের চন্দনপুরা এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলিসহ এবং চালিতাতলি এলাকায় ইদ্রিস নামক একজন অটোরিকশা চালককে গুলির ঘটনায় রাজ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে সরওয়ার বাবলার মৃত্যুর ঘটনায় আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন সরওয়ার বাবলার বাবা আব্দুল কাদের।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সহিংসতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সরওয়ার হোসেন বাবলা হত্যা, বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলা, মো. ইদ্রিসকে গুলি করা এবং রাউজানে সংঘটিত গুলিবর্ষণের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
তিনি জানান, রাউজান উপজেলায় সন্ত্রাস ও একাধিক গুলিবর্ষণের ঘটনায় মূলহোতা ইশতিয়াক চৌধুরী অভিসহ তিনজন, প্রতিবন্ধী অটোরিকশা চালক মো. ইদ্রিসকে গুলি করার ঘটনায় একজন এবং বাবলা হত্যাকাণ্ডে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সরওয়ার বাবলা হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামি আলাউদ্দিনকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তার স্ত্রী দোলা। র্যাবের ব্রিফ চলাকালীন তিনি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
দোলা বলেন, ‘আমার স্বামী এলাকায় ইট বালুর ব্যবসা করেন। তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি। ঘটনার দিন তিনি ওই এলাকায়ও ছিলেন না। তাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
এর আগে, বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানার চালিতাতলী এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী গণসংযোগে গুলি চালানো হয়। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলে ১৮ মামলার আসামি সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন।
একইদিন রাত পৌনে ১২টার দিকে রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের কোয়েপাড়া গ্রামে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রস্তুতি শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল অস্ত্রধারী শ্রমিক দল ও কৃষক দলের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ সুমন, কৃষক দলের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইলসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন।
পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে একই এলাকার কুয়াইশ চালিতাতলীতে আবারও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এবার বাম পা-বিহীন প্রতিবন্ধী অটোরিকশা চালক মো. ইদ্রিসকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা।
র্যাব জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাউজান ও বায়েজিদ এলাকায় টানা গুলিবর্ষণ, প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে হামলা ও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনায় এই চক্রের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


