চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের হাইকমান্ড প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করেছে বলে জানা গেছে।
একাধিক আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় দলীয় অভ্যন্তরে চলছে তৎপরতা ও কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ। সূত্রমতে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের যোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা এবং দলের প্রতি নিষ্ঠা যাচাই করেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।
তবে এখনো চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা না হলেও দলের ভেতরে আলোচনা তুঙ্গে। বিভিন্ন আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন, কেউ কেউ গণসংযোগেও নেমেছেন। বিশেষ করে নগর ও উত্তর জেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
দলীয় সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবার অভ্যন্তরীণ কোন্দল পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে চায়। নেতাকর্মীদের আশা, দ্রুত চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে দলটির নির্বাচনী মাঠ আরও সরব হয়ে উঠবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ‘বিএনপি এখনো কোনো আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমরা প্রার্থীদের সঙ্গে বসেছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।’
দলীয় সূত্র বলছে, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। শরিক দলগুলোকে ঢাকার কয়েকটি আসন ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও আছে।
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন–চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই): উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান ও প্রবাসী পারভেজ সাজ্জাদ। সম্প্রতি বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নুরুল আমিনের সদস্যপদ ফিরিয়ে দিয়েছে দল।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি): উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলমগীর, গবেষণা সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, উপজেলা আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) মো. আজিম উল্লাহ বাহার।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ): সাবেক এমপি মোস্তফা কামাল পাশা ও কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড): দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ): কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান): বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া): কেন্দ্রীয় সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী): মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী–বাকলিয়া): নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চসিকের সাবেক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল আলম।
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং–পাহাড়তলী–হালিশহর–খুলশী): সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু ও সাবেক নেতা মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর–পতেঙ্গা–ইপিজেড–সদরঘাট): বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া): দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী): সাবেক এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক): এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও তার ছেলে ওমর ফারুক।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া): দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন, নাজমুল মোস্তফা আমিন ও মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী): সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।
চট্টগ্রাম-১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটা মনোনয়ন দেয়ার জন্য কিনা আমি জানি না। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে বলা হবে না ততক্ষণ আমি নিশ্চিত নই।’
সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে সেটি হবে তৃণমূলের বিজয়। দলের জন্য আমি সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করেছি।’
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-১২ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী এনামুল হক এনাম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘দলের হাইকমান্ড ত্যাগীদের মূল্যায়ন করছেন বলে শুনেছি। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে হামলা মামলার শিকার হয়েছি। অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। হয়তো দল আমাকে মনোনয়ন দিতে পারে। তবে আমি এখনো নিশ্চিত নই।’


