ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজ মার্কেটে বরাদ্দ দেওয়া বৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা অবৈধ বলে উচ্ছেদের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শহরের সব ওষুধের দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে ড্রাগিস্ট ও কেমিস্ট সমিতি। পরে ধর্মঘটও করেন ব্যবসায়ীরা।
সোমবার ভোর থেকে এ কর্মসূচি পালন শুরু করেন তারা। এ ঘটনায় শহরের এক হাজারের বেশি ওষুধের দোকান বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়ছেন রোগী ও সাধারণ মানুষ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি পৌর শাখার সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, ১৯৮৩ সাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহিলা কলেজ মার্কেটে ১৪টি দোকান বৈধভাবে ভাড়া নেওয়া হয়। ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ভাড়াও দিয়ে আসছেন। অথচ সম্প্রতি বরাদ্দ এসব দোকানকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে জোর করে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। যা অমানবিক ও অবৈধ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ব্যবসায়ীরা দোকান স্থানান্তরের জন্য আগের চুক্তিনামা অনুযায়ী ছয় মাস সময় দাবি করলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিচ্ছে না। এ অবস্থায় দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রয়োজন।
এ সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট কর্মসূচি চলবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ফেরা রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়েছেন বিপাকে। তারা বলছেন, ডাক্তার দেখানোর পর ওষুধ কিনতে গিয়ে দেখতে পান সব দোকান বন্ধ। কোনো ধরনের ওষুধই তারা কিনতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে শহরের বাইরে থেকে ওষুধ সংগ্রহ করতে হচ্ছে। হঠাৎ করে জরুরি ওষুধের প্রয়োজন হলে তখন কী করবেন, সেই প্রশ্নও করলেন তারা।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এই সরকারি মহিলা কলেজের সামনের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে নতুন ফটক নির্মাণের দাবিতে কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।


