মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনার ৩ মাস পর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ওই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র নাবিদ নাওয়াজ (১৩)।
সোমবার দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেন।
ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক মারুফুল আলম বলেন, ‘২১ জুলাই ওই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নাবিদের শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে ২২ জুলাই তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরপর দুইবার তার পরিবারকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল, যেকোনো সময় দুঃসংবাদ আসার বিষয়ে। তবে চিকিৎসকরা হাল ছাড়েননি। মোট ২২ দিন সে আইসিইউতে ভর্তি ছিল। যার মধ্যে ১০ দিন তাকে রাখা হয়েছিল লাইফ সাপোর্টে।’
নাবিদের শরীরে মোট ৩৬ বার ছোট-বড় অপারেশন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শরীরের ক্ষতস্থানে চামড়া প্রতিস্থাপন হয়েছে আট বার। এই ঘটনায় দগ্ধ আর কোনো রোগীর চিকিৎসা প্রক্রিয়া এত জটিল হয়নি।’
ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘নাবিদকে যেদিন এখানে নিয়ে আসা হলো, সেদিন সে বারবার বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিল। দুর্ঘটনায় পুড়ে যাওয়ার পর তার ফুসফুসে পানি জমেছিল। এজন্য লাইফ সাপোর্টেও উপুড় করে শুইয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এটি খুবই চ্যালেঞ্জিং। সেখান থেকে সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।’
এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের শারীরিক অবস্থাও বেশ ভালোর দিকে এবং সপ্তাহখানেক পর তাদেরকেও ছাড়পত্র দেওয়া হবে।’
এর আগে, ২১ জুলাই দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত পাইলটসহ ৩৫ জন নিহত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দেশের ইতিহাসের ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহতদের বেশিরভাগই শিশু।


