ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে মব সন্ত্রাস, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দখলসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু করে সরকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ অভিযান চালু হয়। শুরু থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত ২০ দিনের অভিযানে ১১ হাজার ২৯২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে অপারেশন ডেভিল হান্ট নামে আর কোনো বিশেষ অভিযান চলছে না। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কবে থেকে এই অভিযান বন্ধ হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলেননি।
বিশেষ যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাসবাদ দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা।
এদিকে ২ মার্চের পর থেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স নিয়মিত মামলা, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং অন্যান্য অভিযোগে গ্রেপ্তারের তথ্য দিলেও অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে আর কোনো তথ্য দেয়নি। এতে প্রশ্ন উঠছে, বিশেষ এই অভিযান কি শেষ হয়ে গেছে?
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর টাইমস অব বাংলাদেশ-কে বলেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরু হয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে। এর সর্বশেষ অবস্থা মন্ত্রণালয় জানে। আমরা প্রতিদিন মামলা, ওয়ারেন্ট এবং মাদকদ্রব্য, চোরাচালানসহ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নসংক্রান্ত অন্যান্য অভিযোগে গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান দিয়ে থাকি।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হলেও তিনি জবাব দেননি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান টাইমস অব বাংলাদেশ-কে বলেন, ‘এখন ডেভিল হান্ট নামে কোনো বিশেষ অভিযান নেই। মন্ত্রণালয় বা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য দিচ্ছে না। তবে অপরাধী ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে।’


