নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপে কলম্বোতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে জ্বলে উঠলেন নীলফামারীর মেয়ে মারুফা আক্তার। ডানহাতি এই পেসারের সুইং আর গতির সামনে অসহায় হয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি ব্যাটাররা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই টানা দুই বলে উইকেট তুলে নিয়ে দলকে দারুণ শুরু উপহার দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে ম্যাচসেরা স্বীকৃতি পান মারুফা।
মারুফার জন্ম নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের ঢেলাপীর গ্রামে। বাবা আইনুল্লাহ হক পেশায় কৃষক, মা মর্জিনা বাড়ির কাজকর্ম করেন। সংসারে অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী।

স্কুলে যাওয়ার আগে বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করতেন মারুফা। ফেরার পর ভাই-বোন ও পাড়ার ছেলেদের নিয়ে উঠানে কিংবা রেললাইনের পাশে ক্রিকেট খেলতেন। বড় ভাই আল-আমিন প্রাইভেট পড়িয়ে পাওয়া টাকায় ব্যাট-বল কিনে দিতেন, যা তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
২০১৮ সালে প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্পে সুযোগ পান মারুফা। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) নজরে আসেন এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে ১৮ বছর বয়সেই ডাক পান জাতীয় দলে।
ভারতের বিপক্ষে ৭ ওভারে ২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ঐতিহাসিক ওয়ানডে জয়ের নায়কও ছিলেন তিনি। তার ইনসুইং, রানআপ আর গতি ইতোমধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেটে আলাদা ছাপ ফেলেছে।

বাবা গর্ব করে বলেন, ‘আমার চার সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট মারুফা। এখন আর আমাকে কেউ নামে ডাকে না, সবাই বলে মারুফার বাবা। এর চেয়ে আনন্দের কিছু নেই।’
নীলফামারীর ক্রীড়া সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা জয়লান আবেদিন বলেন, ‘মারুফার পারফরম্যান্স আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। তার বোলিং অ্যাকশন আলাদা, আত্মবিশ্বাসও অসাধারণ। সামনে বাংলাদেশকে আরও সাফল্য এনে দেবে।’
আগামী ৭ অক্টোবর গৌহাটিতে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। সবার নজর থাকবে নীলফামারীর গর্ব মারুফার দিকেই।


