জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের ফাঁকে নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কুফের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের গ্রামে হিমাগার সুবিধা স্থাপনে ডাচ সরকারের সহযোগিতা চান। বৈঠকে দুই নেতা কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং ভুয়া তথ্য রোধসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ দ্রুত ফল ও শাকসবজি উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হলেও মৌসুমি অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম পড়ে যায় এবং এতে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন।’
তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ এলাকায় স্বল্পমেয়াদী হিমাগার সুবিধা না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ করতে পারেন না। নেদারল্যান্ডস কৃষি প্রযুক্তিতে বিশ্বনেতা। আমাদের প্রয়োজন আপনাদের আধুনিক প্রযুক্তি, যাতে আমরা উৎপাদিত ফল ও সবজি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারি।’
তিনি গবেষক ও বিজ্ঞানী পাঠিয়ে সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে কাজ করার জন্যও নেদারল্যান্ডসকে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রতিবছর বাংলাদেশে সংরক্ষণের অভাবে হাজার হাজার টন ফল ও সবজি নষ্ট হয়। এতে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক লোকসান হয়।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল ও পেয়ারা জাতীয় ফলের বিশ্ববাজারে চাহিদা রয়েছে। তবে রপ্তানি বাড়াতে উন্নত সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও কার্যকর লজিস্টিক ব্যবস্থা অপরিহার্য।’
তিনি নেদারল্যান্ডসের পানি ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক গবেষণায় অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা এবং নদীর নাব্যতা রক্ষায় ডাচ সহযোগিতা পেতে আগ্রহী।’
ডাচ প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কুফ বলেন, ‘আমি এ বিষয়গুলো পর্যালোচনা করব।’
তিনি বস্ত্র খাতে সহযোগিতা করার আগ্রহ জানান।
বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচি, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি এবং ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘তথ্যবিকৃতির ভয়ঙ্কর ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এ সহযোগিতা ছাড়া আমরা কার্যকরভাবে লড়তে পারব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৫ বছরের স্বৈরশাসনের সময়ে দেশে সুষ্ঠু কোনো নির্বাচন হয়নি, শুধু ভুয়া নির্বাচন হয়েছে। বর্তমানে আগের শাসকদের ঘনিষ্ঠরা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে।’
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা জানান, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রস্তুতিতে বৈশ্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে তিনি এবং আরও ছয়জন রাজনৈতিক নেতা নিউইয়র্ক সফরে রয়েছেন।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশের লাখো তরুণ এখন ভোট দিতে আগ্রহী। তাদের মধ্যে অনেকে এখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি।’
ডাচ প্রধানমন্ত্রী স্কুফও ভুয়া তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি। এর বিরুদ্ধে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।’
বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন।


