আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। নির্বাচনের দিন সংসদ কক্ষ ব্যবহারের পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা এবং সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অংশ নিয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে সংসদ কক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপযোগী করা, ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনের দিন সংসদ সদস্যদের যথাসময়ে উপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ।
সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ ব্যবহারের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণসংক্রান্ত কার্যবিবরণী প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আইন অনুযায়ী যেভাবে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরাসরি জনগণের ভোটে নয়; সংসদ সদস্যদের ভোটে অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ৩ ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করেন এবং তিনি এ নির্বাচনের ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করে এবং সিইসি সংসদ সদস্যদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করে ভোটগ্রহণ পরিচালনা করেন।
আইনের ৪ ধারায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ সদস্যদের বৈঠক সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি করে ভোট থাকে।
ভোটগ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করবেন। যে প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পাবেন, তাঁকেই নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। সমান ভোট হলে আইনে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।
প্রস্তুতিতে সংসদ ও ইসির সমন্বয়
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার হয়েছে। গত ২৮ জুলাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পর সিইসি জানিয়েছিলেন, নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
এর আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। সংসদ অধিবেশন চলমান থাকলে নির্বাচন আয়োজনের ধরন এবং সংসদ অধিবেশন না থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা—দুই পরিস্থিতির বিষয়েই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে বিধান রয়েছে।
শেষ মুহূর্তে যেসব প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ
২০ আগস্টের ভোট সামনে রেখে এখন মূলত কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে— সংসদ কক্ষকে ভোটগ্রহণের উপযোগী করা; ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও লজিস্টিক প্রস্তুত রাখা; সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা; নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা; সংসদ ভবনে প্রবেশ, চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সমন্বয় করা; ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার সময় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা।
২০ আগস্ট সংসদ কক্ষেই ভোট
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিও তত জোরদার হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এবং নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালিত হবে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১কে সংশ্লিষ্ট আইন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য হুইপ আলহাজ্ব মো. জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


