এগারো ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও শফিকুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩ এর বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী শুনানি শেষে ৫ হাজার টাকার মুচলেকায় তার এই জামিন আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলাম কাইয়ুম।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. খোরশেদ আলম আদালতে জামিন আবেদন করে উল্লেখ করেন, শফিকুর রহমান একজন সহজ-সরল ও নিরীহ প্রকৃতির ব্যক্তি এবং তিনি দেশের একটি সম্মানজনক প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে আসীন ছিলেন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে দীর্ঘ ৭১ দিন কারাবন্দি থাকার পাশাপাশি তিনি বর্তমানে শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ। এসব মানবিক দিক বিবেচনা করে তার জামিনের প্রার্থনা জানানো হলে আদালত তা মঞ্জুর করে, যোগ করেন তিনি।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুর বাবা একজন হোটেল কর্মচারী। গত বছরের জুন মাসে সিকিউরিটি গার্ড জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীর বাসায় সন্তান দেখাশোনার কাজে মোহনা নামের ওই শিশুকে নিয়োজিত করা হয়। কাজে দেওয়ার সময় আসামিরা শিশুর পড়াশোনা ও বিবাহের খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে তারা অমানবিক আচরণ শুরু করেন।
গত ২ নভেম্বরের পর থেকে পরিবারকে আর শিশুর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি বিথী শিশুটির বাবাকে ফোন করে মেয়েটি অসুস্থ বলে নিয়ে যেতে বলেন। ভুক্তভোগীর বাবা তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে দেখেন, শিশুর দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম এবং সে ঠিকমতো কথাও বলতে পারছে না।
গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সে জানায়, কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তুচ্ছ কারণে শফিকুর রহমান ও বিথী তাকে মারধর করতেন এবং আগুনে গরম করা খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছেন।
এই ঘটনার পর শিশুর বাবা উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করলে গত ২ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে উত্তরার বাসা থেকে শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর থেকে সাবেক এই এমডি কারাগারেই ছিলেন।


