আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলা র্যাবের গুম খুনের ব্যাপারে মামলায় এখন পর্যন্ত কোনও সহায়তা চাওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ। তিনি বলেন, ‘বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত যে সব বিষয় আছে তার জন্য ট্রাইবুনালকে আমাদের পক্ষ থেকে অবশ্যই সহযোগিতা করা হবে। গুম খুনের ব্যাপারে মামলায়ও ট্রাইব্যুনাল র্যাবের সর্বোচ্চ সহায়তা পাবে।’
রোববার দুপুরে রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজারের র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ক্রসফায়ার সংক্রান্ত মামলার নথি চাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, ‘বিচারপ্রক্রিয়ার স্বার্থে কোনও সংস্থা তথ্য বা সহায়তা চাইলে র্যাব সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। সংস্থার কাছে থাকা তথ্য আইনানুগভাবে সরবরাহ করা হবে। তবে যে তথ্য র্যাবের কাছে নেই বা দেওয়ার সক্ষমতার বাইরে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হবে।’
অতিরিক্ত আইজিপি জলদস্যু ও জঙ্গিবাদ নিয়ে বলেন, সারা দেশে জলদস্যুর বিস্তার বাড়ার কথা আমরা শুনেছি। এসব বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ আছে কি না তা আমি সরাসরি উত্তর দেব না। তবে তা নিয়ে আমরা কাজ করছি।
র্যাব বিলুপ্তি নিয়ে র্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ‘র্যাব বিলুপ্ত হবে কি না তা সরকারের বিষয়। তবে আমাদের দায়িত্ব কাজ করা, তা আমরা করব। দেশে এ রকম একটি সংগঠন দরকার আছে। তারা রাষ্ট্রের দ্বায়িত্বশীল কাজে কাজ করবে। সঠিকভাবে পরিচালিত হলে ভাবমূর্তি বাড়বে।’
‘র্যাবের নিজেদের অপকর্ম গত দেড় বছরে নেই বললেই চলে। র্যাব সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। সে বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা আছে,’ যোগ করেন তিনি।
মানবাধিকার লঙ্ঘন বা অন্য অভিযোগ বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘বাহিনীর অভ্যন্তরে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা নিজস্ব ব্যবস্থায় তদন্ত করা হয় এবং কোনো ক্ষেত্রেই ছাড় দেওয়া হয় না।’
এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে র্যাবের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।
র্যাবের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আহসান হাবীব বলেন, ‘এটি একটি বিশেষায়িত বাহিনী, যার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। র্যাব মূলত পুলিশেরই একটি অংশ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিতভাবে কাজ করে।’
বাইরে থেকে যে ধারণা তৈরি হয়, বাস্তবে র্যাব আরও বেশি সংগঠিত ও কাঠামোবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
র্যাবকে একটি পেশাদার, মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে ভবিষ্যতেও সংস্থাটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার বিষয়ে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘সংস্থাটি গঠনের সময় থেকে বিভিন্ন সময়ে কিছু বিচ্যুতি বা ভুলত্রুটি থাকতে পারে। তবে সেসব জায়গা সংশোধনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব।
গত দেড় বছরে র্যাবের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।


