ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পরীক্ষার হলে ‘গার্ডিয়ানদের গার্ডে’ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছেন শিক্ষকরা। চাকরিতে গ্রেড বৃৃদ্ধির দাবিতে যেসব স্কুলে সহকারী শিক্ষকরা পরীক্ষার হলে ডিউটি না করে কর্মবিরতি পালন করেছেন, সেসব স্কুলে অভিভাবকদের সহায়তায় পরীক্ষা নিয়েছেন প্রধান শিক্ষকরা।
সোমবার থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত রুটিন অনুসারে প্রথম দিন ‘প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব ক্লাসেই ‘বাংলা’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষার হলে অভিভাবকদের ডিউটি করা নিয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, অভিভাবকরা পরীক্ষা কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করেননি। তারা শুধু প্রধান শিক্ষকদের সহযোগিতা করেছেন। ‘আমরা কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করেই স্কুল কার্যক্রম পরিচালিত করছি’ বলে মন্তব্য করেন মহাপরিচালক।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম দিনের পরীক্ষায় অল্প কিছু স্কুলে সমস্যা হচ্ছিল। সেসব স্কুলে পাশের হাইস্কুলের শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। পরের পরীক্ষাগুলো আরও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজধানী ঢাকার অধিকাংশ স্কুলে সহকারী শিক্ষকরা পরীক্ষার হলে ডিউটি করেছেন বলে জানান বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ।
রাজধানীর গেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই প্রধান শিক্ষক ‘টাইমস’কে বলেন, ঢাকায় অল্প কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া বাকিগুলোতে সহকারী শিক্ষকরাও পরীক্ষায় ডিউটি করেছেন।
তবে ঢাকার বাইরে অনেক প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষকরা পরীক্ষা না নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেছেন। গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলা, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা ও বগুড়া সদরের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক পরীক্ষায় ডিউটি না করার কথা নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, সহকারী শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুসারে কর্মবিরতি পালন করেছেন। তারা পরীক্ষার হলে যাননি। পরীক্ষা নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
সহকারী শিক্ষকদের ছাড়াই একদিনে পাঁচটি ক্লাসের পরীক্ষা নেওয়া সম্পর্কে তারা জানান, সকালের শিফটে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পরীক্ষা হয়েছে। দুপুরের শিফটে অনুষ্ঠিত হয়েছে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা। প্রধান শিক্ষককে কয়েকজন স্থানীয় অভিভাবক, স্কুল কমিটি এবং স্কুলের স্টাফ সাহায্য করেছেন।
পরীক্ষার মধ্যে কর্মবিরতির কারণে রাজবাড়ীসহ দেশের কিছু স্থানে অভিভাবকদের তোপের মুখেও পড়েছেন সহকারী শিক্ষকরা। রাজবাড়ীর টাউন মক্তব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর দাবি ঠিক আছে। কিন্তু বার্ষিক পরীক্ষার আগে তাদের ক্লাস বর্জন, পরীক্ষা বর্জন শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলাতে শিক্ষকদের আন্দোলনের কোনো প্রভাব পড়েনি। রাঙ্গামাটির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জানান, জেলা পরিষদের নির্দেশই তিন পার্বত্য জেলায় শেষ কথা। জেলা পরিষদ থেকে যেহেতু শিক্ষকদের কোনো কর্মবিরতিকে সমর্থন করা হয়নি, তাই এই অঞ্চলে কোনো কর্মবিরতি নেই। পুরো আন্দোলনের সময়ও সহকারী শিক্ষকরা এই তিন জেলায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করেননি। তিন পার্বত্য জেলায় নির্বিঘ্নে বার্ষিক পরীক্ষা চলছে।
মূলত, চাকরির গ্রেড বৃদ্ধিসহ তিন দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করছেন সরকারি প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা। ১১তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন জারির ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।


