গাজীপুরে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে ভবন থেকে দ্রুত নামতে গিয়ে টঙ্গী, গাজীপুর সদর ও শ্রীপুরের অন্তত ৪০০ মানুষ আহত হয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, আহতদের বেশির ভাগই পোশাকশ্রমিক।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী কম্পনের পর গাজীপুরজুড়ে উচ্চ ভবন দুলতে শুরু করলে ঘরবাড়ি, কারখানা, অফিস ও দোকানপাট থেকে মানুষ ছুটে বের হয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।
আতঙ্ক ছড়ায় হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানাতে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি। অনেক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখে।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন মো. মামুনুর রহমান জানান, জেলায় মোট ৪০০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৮৬ জন, ৯৭ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং টঙ্গীতে চিকিৎসা পেয়েছেন ৯০ জন।
গুরুতর আহত ৪৩ জনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, কাপাসিয়া ও সদর এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা চলছে বলে জানান তিনি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন বলেন, গাজীপুর চৌরাস্তার হাসান তারভিন গার্মেন্টসে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। মহানগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের চাকুলিয়া এলাকায় একটি চারতলা ভবন হেলে পড়েছে বলে জানা গেছে।
শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তাদের হাসপাতালে মোট ৮২ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। ভর্তি ৫৫ জনের মধ্যে ৪৯ জন নারী, পাঁচজন পুরুষ ও একজন শিশু রয়েছে। বেশির ভাগই দৌড়াদৌড়ি ও আতঙ্কে পড়ে আহত হয়েছেন। হাসপাতালের পুরাতন ওয়ার্ড ভবনের একটি অংশে ফাটল দেখা গেছে বলে জানান তিনি।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সরফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নগরবাসীর সুরক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। ভূমিকম্পের পরপরই ২৪ ঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে।’


