গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকাতুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। প্রশাসনের তৎপরতা ও জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ময়নাতদন্ত শেষে গভীর রাতেই নিহতদের মরদেহ ফ্রিজিং ভ্যানে করে তাদের নিজ জেলা গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়।
শনিবার কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ঘটনাস্থলে ছুটে যান প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন, কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না তাসনীমসহ জেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন।
সাধারণত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেলা ২টার পর ময়নাতদন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক বিশেষ উদ্যোগ নেন। মরদেহগুলোতে গভীর জখম থাকায় দ্রুত পচনের আশঙ্কায় তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে রাতেই পাঁচটি লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন।
ময়নাতদন্ত পরবর্তী মরদেহ পরিবহনেও জেলা প্রশাসক বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন। প্রতিকূল আবহাওয়ায় বৃষ্টিতে লাশের অমর্যাদা হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে তিনি সাধারণ পিকআপ ভ্যানের পরিবর্তে ব্যক্তিগত তদারকিতে দুটি অত্যাধুনিক ফ্রিজিং ভ্যানের ব্যবস্থা করেন।
সেই সঙ্গে দাফন ও পরিবহন সংক্রান্ত যাবতীয় আর্থিক সহায়তার দায়ভারও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘মরদেহের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।’
নিহতরা হলেন গোপালগঞ্জের পাইককান্দি গ্রামের শাহাদত মোল্লার কন্যা শারমিন খানম (৩৫), তার ভাই রসুল (২২), এবং শারমিনের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২)।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শারমিনের স্বামী ফোরকান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পলাতক রয়েছেন। গভীর রাতে মরদেহবাহী ফ্রিজিং ভ্যানগুলো যখন গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়, তখন সেখানে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা প্রশাসনের এমন দ্রুত ও সংবেদনশীল পদক্ষেপে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।


